...|...|...

ঢাকা

নির্মাণ শেষ হতে না হতেই খানাখন্দে ভরে গেছে কোটি টাকার সড়ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩ আগস্ট ২০২৬, সকাল ১০:৩০ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১:৩৬
Shares
নির্মাণ শেষ হতে না হতেই খানাখন্দে ভরে গেছে কোটি টাকার সড়ক

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, উঠে এসেছে ঢালাইয়ের রড, কোথাও খসে পড়েছে বিটুমিন। ফলে মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মাদারীপুর সদর থেকে মস্তফাপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার অংশ এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পথে চলাচল করছেন হাজারো যাত্রী, শিক্ষার্থী ও যানবাহনের চালক।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২৫ কোটি ১০ লাখ ৮২ হাজার টাকা ব্যয়ে সড়কটির পূর্ণ পুনর্নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। জেলা সওজের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির কাজ করছে অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড (টেন্ডার আইডি: ১১৭৬২৯১)। চলতি বছরের মার্চে নির্মাণকাজ শুরু হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত, ফাটল ও দেবে যাওয়ার ঘটনা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং যথাযথ তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইটেরপুল বাজার এলাকা। ঢালাইয়ের শুরু ও শেষাংশ মিলিয়ে প্রায় ২৫টি স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এছাড়া কাজীর মোড়, কলেজ মোড় এবং থানা রোডের পশ্চিম পাশেও বিটুমিন উঠে গিয়ে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে ভরে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যাচ্ছে।

সড়কের এমন বেহাল অবস্থায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও চালকদের। ধুলাবালি, খোঁড়াখুঁড়ি এবং যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন সড়ক ভেঙে আবার নির্মাণের নামে সরকারি অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। তারা প্রকল্পের গুণগত মান ও ব্যয়ের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আলিম মাতুব্বর, সোহেল মাতুব্বর ও ইমাম হাওলাদার বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের গাফিলতির কারণেই প্রকল্পটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এর দায় শেষ পর্যন্ত জনগণকেই বহন করতে হচ্ছে।’

ইটেরপুল এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মোমিন বলেন, ‘শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে আপত্তি তুলেছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন প্রভাবের কারণে সেই প্রতিবাদ গুরুত্ব পায়নি। এখন তার খেসারত দিচ্ছে পুরো এলাকার মানুষ।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী টুটুল বলেন, ‘কাজের সময় একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আজ সড়কের এই অবস্থা তারই প্রমাণ।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, মেরামতের জন্য সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন।

সমালোচনার মুখে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সওজ বিভাগ বিটুমিন, বালু ও ইট দিয়ে গর্তগুলো সাময়িকভাবে ভরাটের কাজ শুরু করেছে।

মাদারীপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী খ. ম. নকীবুল বারি বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। বৃষ্টির কারণে কিছু স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে আমরা সাময়িক মেরামতের কাজ করছি। আমি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর এখানে যোগদান করেছি। তাই আগের কাজের গুণগত মান নিয়ে মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’

তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন, কোটি টাকার একটি প্রকল্পে নির্মাণকালেই যদি সড়কের এমন বেহাল অবস্থা হয়, তাহলে নির্মাণের মান, তদারকি ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি। অন্যথায় সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগও অব্যাহত থাকবে।