...|...|...

জাতীয়

নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৪৯ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৫০
Shares
নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিতে হবে নিজেদের সন্তানদের সুস্থ ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। শিশুদের জীবন শুধু বাড়ির আশপাশে সীমাবদ্ধ নয়। তারা স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। তাই ব্যক্তিগত এলাকার পাশাপাশি পুরো শহর পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা বর্জ্য ও অপরিচ্ছন্নতা। এই সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো সম্ভব।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। পরিবর্তন আনতে সময় লাগলেও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাজ করার সদিচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নগরীর বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের সময় তিনি সমস্যাগুলো পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করেন। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও একইভাবে সমস্যাগুলো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে নগরীর উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে লন্ডনের বিভিন্ন এলাকাতেও ময়লা-আবর্জনার সমস্যা ছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে সেখানকার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

বিদেশের পরিচ্ছন্ন শহর দেখে আফসোস না করে নিজেদের দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের নগরীগুলোকে বাসযোগ্য করে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সাথে সাম্প্রতিক সাক্ষাতের কথা তুলে ধরেন তিনি। ওই কর্মকর্তা ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতিতে আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলে পরিবর্তন আনা সম্ভব। সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে নগরীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা যাবে।

এ সময় নগরীর সড়ক, সড়ক বিভাজক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। কোথাও সড়ক বিভাজক নির্মাণ এবং কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনায় উন্নতি হচ্ছে উল্লেখ করে এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিওচিত্রও তাকে দেখানো হয়।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।