...|...|...

রাজনীতি

নিজেদের ব্যর্থতা বিরোধীদের ওপর চাপাচ্ছে সরকার: জামায়াত আমির

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:২৪ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:৫৯
Shares
নিজেদের ব্যর্থতা বিরোধীদের ওপর চাপাচ্ছে সরকার: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সরকার নিজেদের ব্যর্থতার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধ করতে না পারা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার দায় সরকারকে নিতে হবে।

চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো সংসদ সদস্যের পদত্যাগই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, পদত্যাগের মাধ্যমে জনসমর্থন অর্জনের চেষ্টা করা হলেও অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর দেশে বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঘাটতি রয়ে গেছে এবং বৈষম্য বাড়ছে। জুলাইয়ের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য তরুণদের আত্মত্যাগের প্রত্যাশিত প্রতিফলন নিশ্চিত করা জরুরি।

জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সাত মাসের বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের আলোচনায় অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সনদ বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে নির্বাচন ও সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় বলে জানান তিনি। জামায়াতের অবস্থান ছিল, আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে পরে সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা। কিন্তু একই দিনে দুটি নির্বাচন বা কার্যক্রম আয়োজনের সিদ্ধান্তে বিষয়গুলো একসাথে মিশে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়গুলো উপেক্ষা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তার মতে, কোনো বিষয়ে সমঝোতার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কমিটির সাথে বিরোধী দলের আলোচনা করা উচিত।

জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকেই নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে সংবিধান সংশোধনের কিছু উদ্যোগ আদালতে বাতিল হওয়ার নজির রয়েছে। তাই এমনভাবে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় তা ব্যর্থ না হয়।

অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রামের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একসময় রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ আয়োজনেও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে মিছিল ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে হয়েছে।

এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ও রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় জামায়াত আমির দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে তার দলের অবস্থান তুলে ধরেন।