...|...|...

সারাদেশ

নাস্তা কম দেওয়ায় স্ত্রীকে মারধর, ৯ দিন পর অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:৫২
Shares
নাস্তা কম দেওয়ায় স্ত্রীকে মারধর, ৯ দিন পর অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের পটিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠার নয় দিন পর সিফাতুন নুর (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই গৃহবধূ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে মারা যান। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাবা মো. নুর।

এ ঘটনায় গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে তার শাশুড়িসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার (৫৫) মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি নাস্তা নিয়ে যান। নাস্তার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) তার মাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একই সময় রাশেদা বেগম (৫৫) ও সুমি আক্তার (৫২) সিফাতুনের চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করেন। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় ওই দিনই সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার পটিয়া থানায় তার মেয়ের শাশুড়িসহ তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে মা ও মেয়েকে মারধরের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

সিফাতুনের পরিবারের দাবি, ঘটনার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আইসিইউতে তার চিকিৎসা চলছিল। টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা মো. নুর অভিযোগ করেন, মারধরের ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তার মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এমন একটি ঘটনা সাজানো হয়েছিল। তিনি এ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুরের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সিফাতুন ছিলেন সবার ছোট। প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের ইলিয়াছ খাঁ বাড়ির মৃত আব্দুল সবুরের ছেলে দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সাথে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়।

বিয়ের পর স্বামী প্রবাসে থাকায় সিফাতুন শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করতেন। তার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তিনি সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন।

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, গত ১৪ অক্টোবর ওই গৃহবধূকে মারধরের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি। ঘটনার মূল বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।