...|...|...

জাতীয়

নভেম্বরের মধ্যেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮:৩৯ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮:৪২
Shares
নভেম্বরের মধ্যেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি

ছবি: সংগৃহীত

আগামী নভেম্বরের মধ্যেই পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার আশা করছে সরকার। একইসাথে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও কমিটির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রাথমিক ফিজিক্যাল ও ক্রিটিক্যালিটি টেস্ট সফলভাবে শুরু হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনার ভিত্তিতে আগামী নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়া আগামী বছরের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

বৈঠকে প্রকল্পটির নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরে বলা হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৃতীয় প্রজন্মের একটি আধুনিক ও নিরাপদ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে বিশেষজ্ঞদের কঠোর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নেও প্রকল্পটি সঠিক পথে রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের সুবিধা জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রম এবং দেশের প্রথম গবেষণা জাহাজ নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রূপপুর প্রকল্পের সব কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে কমিটির সভাপতি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এরপর মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব এবং পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তা ও বিজ্ঞানমনস্কতা বাড়াতে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে জাঁকজমকপূর্ণ বিজ্ঞান মেলার আয়োজনের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি নতুন উদ্ভাবনকে পণ্য হিসেবে তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি এবং এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ছাড়াও সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, কে এম বাবর, সানসিলা জেবরিন, সালাহ উদ্দিন, মারদিয়া মমতাজ ও মো. আব্দুল গফুর উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।