...|...|...

সারাদেশ

দেয়ালে লেখা ‘আজ থেকে এই গল্প শেষ’, ঘরে মিলল মা ও দুই শিশুর লাশ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৭:০৯
Shares
দেয়ালে লেখা ‘আজ থেকে এই গল্প শেষ’, ঘরে মিলল মা ও দুই শিশুর লাশ

ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় একটি ঘর থেকে এক নারী ও তার দুই শিশুসন্তানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর বালুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘরের দেয়ালে লেখা ছিল, ‘আজ থেকে এই গল্প শেষ’।

নিহত নারীর নাম স্বর্ণা আক্তার (২৪)। তিনি ওই গ্রামের মাহাতাব হোসেনের ছেলে শাকিল হোসেনের (২৮) স্ত্রী। তাদের দুই সন্তান সাফায়েত হোসেন (৪) ও রাইফা মনি (১)। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুই শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার পর স্বর্ণা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, পেশায় ইজিবাইকচালক শাকিল হোসেন বেশ কিছুদিন ধরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। রবিবার সকালেও তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাকিল বাড়ি থেকে বের হয়ে বাজারে চলে যান।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিবার সন্ধ্যায় স্বর্ণা দুই সন্তানকে নিয়ে শোবার ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে শাকিলের মা ঘরের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। ভেতর থেকে সাড়া না পেয়ে তিনি প্রতিবেশীদের খবর দেন। পরে কয়েকজন প্রতিবেশী দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে স্বর্ণা ও তার দুই সন্তানকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নূর আমিন শাহ বলেন, ‘শাকিল আমার প্রতিবেশী। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছি।’

নূর আমিন আরও জানান, ঘরের দেয়ালে কিছু কথা লেখা ছিল। সেখানে লেখা, ‘আজ থেকে এই গল্প শেষ। আমার সন্তানদের পুলিশের কাছে দিয়েন না। আমি অভাগী মা। (আমার সন্তানদের) নিজে মারছি। মা–বাবা সরি। আমি তোমাদের ভালোবাসি।’

চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক অশান্তির জেরে ওই নারী দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর নিজে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

ওসি জানান, এ ঘটনায় স্বামী শাকিল হোসেনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।