...|...|...

সারাদেশ

দালালের প্ররোচনায় রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে যুদ্ধে প্রাণ হারালেন কুমিল্লার তরুণ

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:১১
Shares
দালালের প্ররোচনায় রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে যুদ্ধে প্রাণ হারালেন কুমিল্লার তরুণ

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত হয়েছেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মো. সাগর (২৪) নামে এক যুবক। রাশিয়ায় একটি বেকারিতে কাজ করতেন তিনি। তবে এক বাংলাদেশি দালালের মাধ্যমে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে চাকরির প্রলোভনে পড়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন বলে দাবি করেছে তার পরিবার। গত শনিবার রাশিয়া থেকে সাগরের এক বন্ধু তার বোনের মোবাইল ফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে মৃত্যুর খবর জানান। এ খবর শোনার পর মূর্ছা যান তার মা। পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।

নিহত মো. সাগর চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট এলাকার কবির হোসেনের ছেলে। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।

পরিবার ও স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান সাগর অভাব-অনটনের কারণে প্রাথমিকের গণ্ডিও পেরোতে পারেননি। কিশোর বয়স থেকেই রিকশা-ভ্যান চালিয়ে পরিবারের আর্থিক জোগান দিতেন তিনি।

উপজেলা সদরের একটি রড-সিমেন্টের দোকানে নিয়মিত পণ্য পরিবহনের সুবাদে ওই দোকানের ম্যানেজারের সাথে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ম্যানেজার চাকরি ছেড়ে বিদেশে চলে গেলেও তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। কয়েক বছর পর ওই ম্যানেজার দেশে ফিরে আবারও একই দোকানে চাকরি নেন। বন্ধুত্বের সম্পর্কের সূত্র ধরে সাগরকে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেন তিনি।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ওই ম্যানেজারের সহযোগিতায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে রাশিয়ায় পাড়ি জমান সাগর। সেখানে একটি বেকারিতে কাজ নেন তিনি। মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা বেতনও পাচ্ছিলেন। কিন্তু বিদেশে ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া সাগরের জীবনে নেমে আসে অনিশ্চয়তা।

রাশিয়ায় কাজ করার সময় এক বাংলাদেশি দালালের সাথে পরিচয় হয় তার। ওই দালাল রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এককালীন ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখান। সেই প্রলোভনে পড়ে চলতি বছরের মে মাসে বেকারির চাকরি ছেড়ে দেন সাগর। পরিবারের দাবি, ওই দালাল তাকে ভুল তথ্য দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যুক্ত করেন।

সাগরের চাচা আব্দুল আওয়াল জানান, বেকারির চাকরি ছেড়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কথা জানালে তিনি সাগরকে নিষেধ করেছিলেন। কারণ, সাগরের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু দালালের প্রলোভনে পড়ে তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি।

আব্দুল আওয়াল বলেন, যুদ্ধে যাওয়ার আগে সাগর তার অ্যাকাউন্টে তিন লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন। এরপর থেকে তার সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গত শনিবার রাশিয়ায় থাকা সাগরের এক বন্ধু ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে তার মৃত্যুর খবর জানান। রাতে বিস্তারিত জানাবেন বললেও রবিবার রাত ৯টা পর্যন্ত ওই বন্ধু আর ফোন করেননি। তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।

সাগরের বাবা কবির হোসেন বলেন, ‘সবজির ব্যবসা করেছি। দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে অসুস্থ। অনেক ধার-দেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছি। প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে ছেলেটার সাথে কথাও বলতে পারিনি। এখন শুনি, আমার ছেলে আর নেই।’

এ কথা বলেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। পরিবারের একমাত্র আশার জায়গা হয়ে ওঠা ছোট ছেলেকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা।

এদিকে, সাগরের মৃত্যুর খবরের বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক টাইমস টুডেকে জানান, বিষয়টি তাকে এক সাংবাদিক জানান পরবর্তীতে নিউজে তার নজরে আসে, বর্তমানে তিনি একজন প্রতিনিধি তাদের বাড়িতে পাঠিয়েছে, বিষয়টা তদন্ত করে পরিবর্তে আপডেট জানানো হবে।