দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের একটি তাঁবু লক্ষ্য করে দখলদার ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
সূত্র জানায়, খান ইউনিসের আল-বুরাক এলাকায় হামলার পর হতাহতদের নাসের হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের জানায়, ইসরায়েলি ড্রোন থেকে তাঁবুটি লক্ষ্য করে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিকরা সেখানে মোবাইল ফোন চার্জ করার জন্য একটি যৌথ কেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন।
এর আগে উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আহত ছয় বছর বয়সী জিহাদ ইয়াদ আল-ঘান্দুর মারা যায়। রবিবার আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে, পূর্ব গাজা সিটির শুজাইয়া এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা সম্প্রসারণ করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। সেখানে গোলাবর্ষণ ও গুলিতে এক গর্ভবতী নারীসহ দুজন আহত হয়েছেন। প্রাণভয়ে ওই এলাকার বহু পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে গাজার পূর্বাঞ্চলে রাতের বেলা বাড়িঘর ধ্বংস, কামানের গোলাবর্ষণ ও সাঁজোয়া যানের টহল চলছে। এসব তৎপরতা ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ও বেসামরিক অঞ্চলের মধ্যবর্তী ‘হলুদ রেখা’ বরাবর চলছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে তা লঙ্ঘনের ঘটনায় রোববার পর্যন্ত ১ হাজার ৪৮৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ২৮১ জন আহত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।


