ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের অংশগ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রিয়াদের সম্মতি আদায়ের চেষ্টা করা হলেও তাতে সাড়া দেননি তিনি। সংবাদমাধ্যম আনাদোলু জানায়, সোমবার (১২ অক্টোবর) ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘হারেৎজ’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের সামরিক সহায়তা নিতে আগ্রহী ছিলেন না সৌদি যুবরাজ। তার আশঙ্কা ছিল, ইসরায়েলের সাথে সামরিক সহযোগিতা সৌদি জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
এ বিষয়ে অবগত আরেকটি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে চেয়েছিল ইসরায়েল। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তির পথও প্রশস্ত করতে চেয়েছিল দেশটি।
তবে এ প্রতিবেদন নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। রিয়াদ বরাবরই বলে আসছে, ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান এবং স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ প্রতিবেদন সামনে এসেছে। এর মধ্যে দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে বারবার হামলার ঘটনাও রয়েছে, যাতে হতাহতের পাশাপাশি বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। পরদিন রোববার একই বিমানবন্দরে আরেকটি হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং ১১ জন আহত হন বলে সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের তথ্যে জানানো হয়েছে।
ইয়েমেনে ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছিল। তবে জুলাই থেকে আবারও অবনতি শুরু হয়।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথিরা রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশ দখল করে নেওয়ার পর থেকেই ইয়েমেনে সংঘাত চলছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের মার্চে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে।



