...|...|...

রাজধানী

তাহসিফের মৃত্যুরহস্যে নতুন তথ্য, প্রকাশ্যে বারের সিসিটিভি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, রাত ৩:৪১
Shares
তাহসিফের মৃত্যুরহস্যে নতুন তথ্য, প্রকাশ্যে বারের সিসিটিভি

বারের সিসিটিভি।

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুরহস্য তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মৃত্যুর আগের রাতে উত্তরার একটি রেস্তোরাঁ ও বারে বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশা (১৯) ও শাহরিয়ার দীপকে (২৩) নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে প্রায় ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট অবস্থান করে রাতের খাবার খেয়ে বের হন তারা। তবে মদপানের লাইসেন্স থাকলেও সেদিন মদ পান করেননি তাহসিফ।

রেস্তোরাঁর একাধিক সিসিটিভি ফুটেজে তাদের একসাথে অবস্থানের চিত্র পাওয়া গেছে। পরে দিশাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে দীপকে সাথে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান তাহসিফ। কিন্তু সেখানে যাওয়ার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এরপর কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্তোরাঁ ও বারের সামনে মোটরসাইকেল নিয়ে পৌঁছান তাহসিফ ও তার বান্ধবী। অন্য একটি মোটরসাইকেলে তাদের সাথে ছিলেন দীপ।

রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে তাহসিফ ও দিশা লিফটের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। কিছুক্ষণ পর সাদা হেলমেট পরা অবস্থায় সেখানে পৌঁছান দীপ। এরপর তিনজন একসাথে লিফটে ওঠেন। রাত ১১টা ৫১ মিনিটে তাদের রেস্তোরাঁ থেকে বের হতে দেখা যায়। অর্থাৎ সেখানে প্রায় ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট অবস্থান করেন তারা।

বারের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, নেস্ট বারে লাইসেন্স ছাড়া প্রবেশ ও মদপানের সুযোগ নেই। নেস্ট বারে প্রবেশের পরে তাহসিফ সাউরি তার মদপানের লাইসেন্স দেখান। তবে সেদিন তিনি মদ পান করেননি। তিনজনে মিলে রাতের খাবার খেয়েছেন। পরে তারা সেখান থেকে চলে যান।

রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার পর দিশাকে উত্তরার বাসায় পৌঁছে দেন তাহসিফ। এরপর তিনি ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান। সেখান থেকে কীভাবে তারা তুরাগ নদ এলাকায় পৌঁছান, সেই সূত্র খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

এদিকে, ঘটনার তদন্তে শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা নেস্ট বারের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করেন। কয়েকটি সংস্থা ফুটেজ দেখে চলে গেলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বারের ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (ডিভিআর) নিয়ে যান। তদন্তের প্রয়োজনে দুটি ডিভিআর নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বারটির একটি সূত্র।

এ ঘটনায় জেরিকা তাসনিম দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রবিবার (১ নভেম্বর) রাত ২টার দিকে রাজধানীর কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুরের মমিন সরণিতে নিজের বাসা থেকে নারী পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে দিশার বাবার নাম দিদারুল আলম দিদার এবং মায়ের নাম জেসমিন আক্তার উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার শাহরিয়ার দীপকেও চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দীপের বিরুদ্ধে করা রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সাথে তার জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পলাতক হয়ে মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুক্রবার রাতে তাকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই রাতে তাহসিফের বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দীপ আটকের পর দাবি করেছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসাথে রাতের খাবার খেয়ে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকায় তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি। তবে তার দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই গত ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

এমনকি মাদকস্পট হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সাথে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেন দীপ। পরে তাকে সাথে নিয়ে টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শন করেন পিবিআই কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এর আগের দিন ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসার নিচে নেমে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন তাহসিফ।

এখন তদন্তকারীদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তরার রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার পর টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় ঠিক কী ঘটেছিল? তাহসিফের শেষ যাত্রার প্রতিটি মুহূর্তের সূত্র খুঁজতেই সংগ্রহ করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ।