...|...|...

সারাদেশ

তান্ত্রিক, কবিরাজ ও জিনের বাদশা সেজে প্রতারণা, গ্রেফতার ২

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:৪১
Shares
তান্ত্রিক, কবিরাজ ও জিনের বাদশা সেজে প্রতারণা, গ্রেফতার ২

তান্ত্রিক, কবিরাজ ও জিনের বাদশা সেজে প্রতারণা, গ্রেফতার ২। ছবি: টাইমস টুডে

মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের নম্বর ক্লোন করে নানা কৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া তান্ত্রিক, কবিরাজ ও জিনের বাদশা সংঘবদ্ধ চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই, ফরিদপুর।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পিবিআই ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘটনা বর্ণনা করেন।

আসামিরা হলো ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানা মুলপাত্তম গ্রামের রমজান শেখের ছেলে মো. রাজিব (২৮) ও ফুলকাচিয়া গ্রামের মৃত মোসলেম হাওলাদারের ছেলে সুমন হাওলাদার (২৬)।

পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ সকাল ১০টার দিকে বিজয় বাবুর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে রাজবাড়ী জেলার বিনোদপুর বাজারের চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলামকে ফোন করে এই চক্রের সদস্যরা। সুলভমূল্যে ৩৩ টন চাল কেনার কথা বললে ব্যবসায়ীকে লেনদেনের বিশ্বস্ততায় তিনি চাল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিকেল ৪টার মধ্যে চাল পৌঁছে যাবে বলে বিজয় বাবুর ফোন নম্বর থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়। 

এসময় রশিদুলকে দ্রুত টাকা পাঠাতে বলা হয়। প্রথমে একটি বিকাশ নম্বরে ৫০ হাজার টাকা ও পরে বেশ কয়েকটি বিকাশ ও নগদ নম্বরে মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম।

বিকেল পর্যন্ত চাউল না আসায় বিজয় বাবুর কাছে গেলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। ভুক্তভোগী রশিদুল প্রতারণার স্বীকার হয়েছে বুঝতে পারেন। এই ঘটনায় চাল ব্যবসায়ী রশিদুল রাজবাড়ী সদর থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, থানা পুলিশ এই মামলার কোনো কূলকিনারা করতে না পারায় বাদীর দাবির প্রেক্ষিতে আট মাস পরে পিবিআই এর নিকট মামলাটি হস্তান্তর করে। 

গোয়েন্দা তথ্য, বিশ্বস্ত সূত্র ও তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় গত ১৯ অক্টোবর রাতে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার কুঞ্জেরহাট থেকে প্রথমে সুমন ও পরে রাজিব কে গ্রেফতার করে পিবিআই পুলিশ।

কঠিন ও গোপন রোগের সমাধান, প্রেমে সফলতা, দাম্পত্য জীবনে অসুখীসহ নানা সমস্যার সমাধানের প্রলোভন দেখাতো আসামিরা। কখনো জিনের বাদশা আবার কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজের ছদ্মবেশে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করতো। এই সকল অপরাধের বিস্তারিত বর্ণনাসহ তাদের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় আসামিরা।

এই চক্রের সদস্যরা কেউ মোবাইল ফোন ক্লোন করে কথা বলে, কেউ ভুক্তভোগীর তথ্য সংগ্রহ করতো, আবার কেউ নানা উপায়ে বিকাশ-নগদের ক্যাশ আউট কাজে নিয়োজিত ছিল। প্রতারণা ও জালিয়াতি চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।