নারায়ণগঞ্জের মদনপুর অংশে এশিয়ান হাইওয়েতে অস্বাভাবিক হারে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বৃদ্ধির প্রভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘস্থায়ী যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় সরেজমিনে দেখা যায়, সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুর এবং কাঁচপুর থেকে লাঙ্গলবন্দ সেতু পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি।
নির্বাচনি ছুটি শেষে একযোগে পণ্যবাহী ট্রাক ও কভারভ্যান সড়কে নামায় ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও এশিয়ান হাইওয়েতে চাপ বেড়ে যায়। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ১১ ঘণ্টা যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও যান চলাচল ছিল ধীরগতির।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল থেকেই বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি দীর্ঘ সময় এক জায়গায় আটকে ছিল। এর সাথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে চলমান সড়ক সম্প্রসারণ কাজ যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। সড়কের প্রস্থ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করে।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ সাহাবুর রহমান জানান, নির্বাচনের কারণে কয়েকদিন পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ ছিল। ছুটি শেষ হতেই সব গাড়ি একসাথে চলাচল শুরু করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রমজান সামনে রেখে পণ্য পরিবহন বাড়ায় চাপ আরও বেড়েছে।
ট্রাফিক ইনচার্জ বিষ্ণুপদ শর্মা বলেন, শিল্পকারখানা ও পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ায় ট্রাকের সংখ্যা হঠাৎ বেড়েছে। পাশাপাশি মদনপুর অংশের সড়কের কিছু অংশ ভাঙা থাকায় ভারী যানবাহন ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানান তিনি।
সকালে অফিসগামী যানবাহনের চাপের সাথে ভারী ট্রাকের ধীরগতি যুক্ত হয়ে কাঁচপুর ব্রিজ ও আশপাশ এলাকায় স্থবিরতা দেখা দেয়। যাত্রীদের অভিযোগ, কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে দ্বিগুণ সময় লেগেছে। বিকল্প সড়ক ব্যবহার করেও স্বস্তি মেলেনি।
ঢাকাগামী যাত্রী সোহেল রানা জানান, কাঁচপুর পার হতে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। অন্যদিকে, নোয়াখালীগামী যাত্রীরা বলেন, ৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সময় লেগেছে প্রায় দুই ঘণ্টা।
হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল ক্যাম্পের টিআই মো. জুলহাস উদ্দিন জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, ধীরগতি ও মাঝেমধ্যে গাড়ি বিকল হওয়াসহ একাধিক কারণে এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।

