...|...|...

জাতীয়

ঢাকার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

টাইম টুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, সকাল ৮:০৯ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬, রাত ১২:১৫
Shares
ঢাকার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুরোনো ছবি

ঢাকার বর্জ্যকে বিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব পণ্যে রূপান্তর করতে আমিনবাজার ও মাতুয়াইলে দুটি বড় প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রবিবার (১২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রকল্প দুটির অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার হাজার টন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, মিথেন গ্যাস, সার, পশুখাদ্য ও পরিবেশবান্ধব ইকো-ব্রিকস উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকার আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে চীনের সিএমইসি গ্রুপ। এই প্রকল্পে প্রতিদিন ঢাকা শহরের প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করা হবে, যা থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে এই কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে পারবে এবং চালুর পর আগামী ২৫ বছর সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরেকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইলে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিঅ্যান্ডএফ কোম্পানি এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করবে, যেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি তা থেকে মিথেন গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এই প্রকল্পে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করা হবে।

মাতুয়াইলের প্রকল্পটিতে বছরে বর্জ্য থেকে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন গ্যাস উৎপাদিত হবে। সেই গ্যাস ব্যবহার করে বছরে প্রায় ৮১ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দৈনিক হিসাবে প্রায় ২২১ মেগাওয়াট-ঘণ্টা। শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না মাতুয়াইলের প্রকল্পটি, সেখানে সৌরবিদ্যুৎ, সার, পশুখাদ্য এবং পরিবেশবান্ধব ইকো-ব্রিকস উৎপাদনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।   

সরকারের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে নিঃসৃত ক্ষতিকর গ্যাস নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রশমনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন দ্রুত এগিয়ে নিতে তিনি স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজনের নির্দেশ দেন।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।