...|...|...

রাজধানী

ড্যাপের বিতর্কিত সংশোধন বাতিলের দাবি আইপিডির

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:০৬
Shares
ড্যাপের বিতর্কিত সংশোধন বাতিলের দাবি আইপিডির

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং পরিবেশ ও জনস্বার্থ উপেক্ষার অভিযোগ তুলে বিতর্কিত গেজেট সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংগঠনটির মতে, নদীতীরবর্তী উন্মুক্ত স্থানে শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদন, ভবনের ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) বৃদ্ধি এবং বন্যা প্রবাহ এলাকায় আবাসন প্রকল্পের সুযোগ বাড়ানো ঢাকার পরিবেশ ও বাসযোগ্যতাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব উদ্বেগের কথা জানান আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান।

বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ড্যাপ সংশোধনের নামে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং যথাযথ পরিকল্পনাগত বিশ্লেষণ ও কারিগরি মূল্যায়ন ছাড়াই গেজেট অনুমোদন করা হয়েছে। জনস্বার্থবিরোধী এই সংশোধন অবিলম্বে সম্পূর্ণ বাতিল করা উচিত বলে মনে করে আইপিডি।

অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খানের অভিযোগ, ২০২২ সালে ড্যাপ প্রণয়নের পর আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তীকালীন ও বিএনপি সরকারের সময়ে বিভিন্ন সংশোধনের মাধ্যমে স্বার্থান্বেষী মহলের ব্যবসায়িক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে নগরের পরিবেশ, বাসযোগ্যতা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পরও এ প্রবণতা অব্যাহত থাকা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইপিডির মতে, ঢাকা মহানগরীর পরিকল্পনা কোনো ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থে পরিবর্তনের দলিল নয়। ভূমির ব্যবহার, জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব, পরিবেশ, যান চলাচল, জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিকদের বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করাই এ পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য। যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ড্যাপ সংশোধন করা হলে পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।

সংগঠনটি জানায়, ড্যাপের তৃতীয় দফা সংশোধনের ক্ষেত্রে পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা এবং কারিগরি মূল্যায়ন যথাযথভাবে করা হয়নি। এমনকি ড্যাপ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সংশোধন সম্পর্কে অবগত নয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে কী প্রক্রিয়ায়, কার সুপারিশে এবং কোন কারিগরি যুক্তিতে সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করে আইপিডি।

এর আগে ড্যাপ সংশোধনের মাধ্যমে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) এবং কাঠাপ্রতি আবাসিক ইউনিট বা পরিবারের সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও নগরের ধারণক্ষমতা, পরিবেশ ও জনস্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি। আইপিডির আশঙ্কা, শিল্প ও আবাসন খাতের বাণিজ্যিক সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনার বিধান পরিবর্তন করা হলে অবকাঠামোগত সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বুড়িগঙ্গার তীর, জুরাইন ও পোস্তগোলার মতো পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ড্যাপে চিহ্নিত নদীতীরবর্তী উন্মুক্ত স্থানে ভারী শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদন নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে আইপিডি। সংগঠনটির বক্তব্য, বিদ্যমান শিল্পকারখানার অপরিশোধিত তরল বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ নদীতে পড়ায় এমনিতেই নদীর পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত। এ অবস্থায় ভূমির ব্যবহার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নদীদূষণ, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০-সহ প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান অনুসরণের ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি।

বন্যা প্রবাহ এলাকা, প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের পথ ও জলাশয়ে আবাসন প্রকল্পের সুযোগ বাড়ানো হলে ঢাকার জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে আইপিডি। এসব এলাকা বৃষ্টির পানি ধারণ ও নগরের পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে এগুলোর সুরক্ষা দুর্বল হলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বাইরের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারাও।

এ ছাড়া পূর্বাচলসহ পরিকল্পিত এলাকায় মূল নকশায় নির্ধারিত জনসংখ্যা, অবকাঠামোগত সক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি কমিটির সুপারিশ বিবেচনা না করে বারবার এফএআর বাড়ানো হলে পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে বলে মনে করে আইপিডি। ভবনের আয়তন বাড়ানোর আগে সড়ক ও গণপরিবহন, পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, অগ্নিনিরাপত্তা, উন্মুক্ত স্থান এবং পরিবেশগত ধারণক্ষমতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

আইপিডির মতে, ড্যাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ নগর পরিকল্পনা সংশোধনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পেশাগত মতামত, পরিকল্পনাগত বিশ্লেষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সরকার পরিবর্তন হলেও পরিকল্পনার মৌলিক লক্ষ্য ও জনস্বার্থ রক্ষার নীতিতে ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি।

সংগঠনটি বলছে, বায়ুদূষণ, যানজট, জলাবদ্ধতা ও উন্মুক্ত স্থানের সংকটে থাকা ঢাকায় পরিকল্পনার ব্যত্যয় এবং পরিবেশগত সুরক্ষা দুর্বল করার সিদ্ধান্ত নগরের বিদ্যমান সমস্যাগুলো আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই বিতর্কিত সংশোধন বাতিল করে জনস্বার্থ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই নগর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে আইপিডি।