...|...|...

স্বাস্থ্য

ডেঙ্গুতে জ্বর কমার পরও যেসব লক্ষণ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৪ | আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫০
Shares
ডেঙ্গুতে জ্বর কমার পরও যেসব লক্ষণ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ

ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু হলে উচ্চ জ্বরের সাথে মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও পেশিতে ব্যথা, বমি, খাবারে অনীহা এবং দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়ার পরই রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে। তাই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর জ্বর কমে যাওয়ার সময়টিও সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

ডেঙ্গুর তিন পর্যায়

ডেঙ্গুর সাধারণত তিনটি পর্যায় দেখা যায়। প্রথমটি হলো জ্বরের পর্যায়। এ সময়ে শরীরের তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে এবং জ্বর দুই থেকে সাত দিন স্থায়ী হতে পারে।

এরপর আসে সংকটপূর্ণ পর্যায়। এ সময় জ্বর কমে গেলেও রোগীর শরীরে রক্তক্ষরণ, তীব্র পেটব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত এই পর্যায় ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং এ সময়টিই সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকার।

তৃতীয় পর্যায় হলো সুস্থ হয়ে ওঠার সময়। এ পর্যায়ে রোগীর ক্ষুধা ধীরে ধীরে ফিরে আসে, প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে এবং রক্তে প্লেটলেটের মাত্রাও বাড়তে শুরু করে।

ডেঙ্গু শনাক্তে যেসব পরীক্ষা করা হয়

জ্বরের প্রথম এক থেকে তিন দিনের মধ্যে এনএস১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করে ডেঙ্গু শনাক্ত করা যায়। জ্বরের চতুর্থ থেকে সপ্তম দিনে আইজিএম অ্যান্টিবডি এবং সাত দিন পর আইজিজি অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়।

এ ছাড়া নিয়মিত রক্তের পূর্ণ পরীক্ষা বা সিবিসি করে প্লেটলেট ও হিমাটোক্রিটের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা দিয়ে রোগীর ঝুঁকি নির্ধারণ করা যায় না; রোগীর সামগ্রিক অবস্থা ও অন্যান্য পরীক্ষার ফলও বিবেচনা করতে হয়।

রক্ত পরীক্ষায় যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ

রক্তে প্লেটলেটের স্বাভাবিক মাত্রা সাধারণত ১.৫ লাখ থেকে ৪ লাখ/ঘনমিলিমিটার। এটি কমে গেলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে প্লেটলেট কমলেই যে গুরুতর অবস্থা তৈরি হয়েছে, এমন নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

হিমাটোক্রিটও ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাত্রা রোগীর স্বাভাবিক মানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলে শরীরে তরল কমে রক্ত ঘন হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। এর সাথে অন্যান্য লক্ষণ থাকলে শকের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ডেঙ্গু রোগীর খাবারে কী থাকবে

ডেঙ্গুতে জ্বর ও বমির কারণে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার অল্প অল্প করে বারবার দেওয়া যেতে পারে।

সকালের নাস্তায় ওটস, পায়েস বা হালকা স্যুপের সাথে ডাবের পানি দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি কলা, আপেল বা লেবু পানি রাখা যেতে পারে।

দুপুরে নরম ভাত, ডাল ও সেদ্ধ সবজির সাথে রুই বা তেলাপিয়ার মতো সহজপাচ্য মাছ দেওয়া যেতে পারে। ঝোল বা স্যুপজাতীয় খাবারও রাখা যেতে পারে।

বিকেলে পেঁপে, কমলা বা অন্যান্য ফল দেওয়া যেতে পারে। পানিশূন্যতা ঠেকাতে ওরস্যালাইন বা প্রয়োজন অনুযায়ী লবণ-চিনির দ্রবণ দেওয়া যেতে পারে।

রাতে হালকা খিচুড়ি, স্যুপ, শাকসবজি ও ফল রাখা যেতে পারে। একবারে বেশি খাবার না দিয়ে অল্প পরিমাণে বারবার খাওয়ানো ভালো।

জ্বর বা শরীরব্যথার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ, ইনজেকশন বা ওষুধের মিশ্রণ ব্যবহার করা উচিত নয়।

যেসব লক্ষণে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে

ডেঙ্গু রোগীর নাক, মুখ বা মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত, কালচে মল, তীব্র বা স্থায়ী পেটব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পর এসব উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ফুলের টব, বালতি, পুরনো টায়ার, কুলারসহ যেসব পাত্রে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

মশার কামড় থেকে সুরক্ষায় দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার, শরীর ঢাকা পোশাক পরা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা যেতে পারে। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং রোগীর অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক, ডা. মো. তালহা চৌধুরী।