...|...|...

খুলনা

ডিসির অসহযোগিতার অভিযোগ, সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের তীব্র প্রতিবাদ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৪:৩১ | আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:২১
Shares
ডিসির অসহযোগিতার অভিযোগ, সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের তীব্র প্রতিবাদ

সাংবাদিকদের সাথে অসহযোগিতা, ফোন না ধরা, বক্তব্য দিতে অনীহা এবং সংবাদকর্মীদের সাথে খারাপ আচরণের অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজের বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের প্রতিবাদে জরুরি সভা করেছে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটি। সভা থেকে জেলা প্রশাসকের ‘অপেশাদার, তীর্যক ও অসহযোগিতামূলক’ আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এ জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে সভায় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, সংবাদ সংগ্রহের প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিতে গেলে বিভিন্ন সময় অসহযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। এমনকি ফোনে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও জেলা প্রশাসক ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন সাংবাদিক।

প্রেসক্লাবের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক এবং যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার আকরামুল ইসলাম সভায় তার সাথে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার বর্ণনা দেন।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাতক্ষীরা কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলার আসামি আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কারাগার ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক মামলা হয়। আত্মগোপনে থাকা ওই আসামি ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট কলারোয়া উপজেলা ভূমি অফিসে জমি-সংক্রান্ত একটি মামলা করেন বলেও তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে প্রতিবেদন করতে বুধবার (১২ আগস্ট) কলারোয়া ভূমি অফিসে যান আকরামুল ইসলাম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি পরদিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান।

আকরামুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করার সুযোগ পান তিনি। পলাতক হত্যা মামলার একজন আসামি কীভাবে ভূমি অফিসে মামলা পরিচালনা করছেন—এ বিষয়ে প্রশ্ন করতেই জেলা প্রশাসক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে আগের একটি সরকারি বৃক্ষরোপণ প্রকল্প নিয়ে প্রতিবেদন করার প্রসঙ্গ তুলে তাকে ভর্ৎসনা করা হয়। এমনকি যমুনা টেলিভিশনে তিনি কীভাবে চাকরি করেন, তা ‘দেখে নেওয়া হবে’ বলেও জেলা প্রশাসক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের কক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসেম ও কয়েকজন সহকারী কমিশনার ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে ক্যামেরাপারসন ইয়ারুল ইসলামকে ক্যামেরা পরীক্ষা করতে বলেন।

প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাভিশন ও বাসসের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান বলেন, গত ২৯ জুলাই সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মোড়ে অবস্থিত দুটি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স নবায়ন না থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগে জরিমানা করেন এনডিসি তাজুল ইসলাম। এ বিষয়ে তথ্য জানতে তার কাছে ফোন করা হলে ‘এসব নিউজ করার দরকার নেই’ বলে তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আসাদুজ্জামান বলেন, একপর্যায়ে এনডিসি তাকে অফিসে এসে দেখা করতে বলেন। বিষয়টি নিয়ে পরদিন কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে গেলে সাংবাদিকদেরই ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়।

প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি নিউজের প্রতিনিধি এম বেলাল হোসাইন বলেন, ‘‘সংবাদ-সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসককে ফোন করলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ‘সাংবাদিকদের বক্তব্য দেওয়া ডিসির কাজ নয়’—এমন কথা বলে তিনি ফোন রেখে দেন।’’

একই ধরনের আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন মাই টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ফয়জুল হক বাবুসহ জেলার আরও কয়েকজন সাংবাদিক।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, ‘জেলার সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংবাদ করতে গিয়ে অতীতের কোনো জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সাংবাদিকরা এমন অসহযোগিতার মুখোমুখি হননি।’

তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসক রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধি। বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার সুশাসন ও জবাবদিহিতা। সাংবাদিকরা জনস্বার্থে তথ্য ও বক্তব্য চাইবেন—এটাই স্বাভাবিক। জেলা প্রশাসকের এমন আচরণ কাম্য ও গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

এদিকে গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের উপহারসামগ্রী দেওয়ার একটি অনুষ্ঠানেও রাজনৈতিক নেতাদের না ডাকাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ বলেন, ‘অনুষ্ঠানের মঞ্চে কাউকে না ডাকায় জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নেতৃত্বে তারা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। তার সাথে জেলা জামায়াতের আমির শহীদুল ইসলাম মুকুলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারাও অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে যান বলে তিনি দাবি করেন।

তবে সাংবাদিকদের অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।