...|...|...

রাজনীতি

ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন বিশ্লেষণ করে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাবে জামায়াত

টাইমস টুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:১৩
Shares
ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন বিশ্লেষণ করে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাবে জামায়াত

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ তাদের হাতে এসেছে। এসব পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ শেষে ফলাফলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাবে দলটি।

একইসাথে নির্বাচন কমিশনের সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দেওয়া বক্তব্যও শতভাগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন গোলাম পরওয়ার।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন তিনি।

১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের প্রস্তুতি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনে প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র কিংবা নির্ধারিত ব্যাচ ছাড়াই দায়িত্ব পালনের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যথাযথ নিয়োগপত্র বা পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি।

তিনি আরও দাবি করেন, আসনটির ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা শত শত প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা নির্বাচন কমিশনের নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন কি না, তার যথাযথ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ রাজনৈতিক দলের কর্মী কিংবা অন্য কোনো পক্ষের লোক ছিলেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

নির্বাচনে আগাম ব্যালট পেপারে সিল ও স্বাক্ষর করে রাখার অভিযোগও তুলেছেন জামায়াতের এই নেতা। তার দাবি, একটি ভোটকেন্দ্রের ব্যালট পেপারের মুড়ি বইয়ে অন্তত ২২টি সিল ও স্বাক্ষর আগেই করে রাখার চিত্র গণমাধ্যমে এসেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, ভোটারকে ব্যালট দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর করার কথা। তাহলে আগেই সিল-স্বাক্ষর করে রাখার উদ্দেশ্য কী, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এ ছাড়া এক নারী ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে জানতে পারেন, তার ভোট আগেই অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছেন। ওই ভোটার নিজেই এমন অভিযোগ করেছেন বলে উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

আরেকটি ভোটকেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা না করেই ব্যালট বাক্স পুলিশের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা গাড়ি আটকে ফলাফল ঘোষণার দাবি জানান। শেষ পর্যন্ত রাতের বেলায় আলো জ্বালিয়ে ফলাফল ঘোষণা করতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এসব অভিযোগ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এতগুলো ঘটনা সামনে আসার পর নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলে দাবি করা গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচন কমিশনের সচিব যদি কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন, তাহলে এসব ঘটনার বিষয়ে তিনি কীভাবে নিশ্চিত হলেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন জামায়াতের এই নেতা।

তার মতে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এমন বক্তব্য নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে জামায়াত বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ছবিও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায় থেকে আরও তথ্য আসছে। সবকিছু পর্যালোচনা করেই ফলাফলের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে দলটি।

নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ এবং কেন্দ্র থেকে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ নাকচ করেছেন তিনি। তার দাবি, ভোটের দিন কেন্দ্রীয় নেতারা প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছেন। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকায় দলের মনিটরিং সেলও সক্রিয় ছিল।

তিনি আরও বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়নি। তবে ফলাফল নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্যের আগে সব অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের প্রস্তুতির বিস্তারিতও তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

আগামীকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ঢাকা-মাওয়া সড়ক, ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া জেলা স্টেডিয়ামে গিয়ে লংমার্চ শেষ হবে।

এ কর্মসূচিতে প্রায় দেড় হাজার যানবাহন যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করছে আয়োজকেরা। এতে ১৯টি জেলার নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সাত দফা দাবির পক্ষে জনমত গঠন এবং সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতা তুলে ধরাই এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য। সেই সাথে লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।