মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্বালানি-সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনের ছয়টি জ্বালানি স্থাপনায় রাশিয়া হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এসব হামলায় ৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি অবিলম্বে কার্যকরের ঘোষণা দেন। তবে জেলেনস্কির দাবি, এরপরও রাশিয়া ইউক্রেনের গ্যাস স্টেশন, জ্বালানি অবকাঠামো ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তাঁর মতে, এটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের ঘোষণার জবাব।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থা উকরেরেনের্গো জানিয়েছে, রুশ হামলায় জ্বালানি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খারকিভ, দোনেৎস্ক ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে নতুন করে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের ওপর চাপ কমাতে দেশের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও সীমিত করা হয়েছে।
এদিকে, রাজধানী কিয়েভের দারনিতস্কি এলাকায় একটি ২৫ তলা আবাসিক ভবনে ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র ভিতালি ক্লিচকো। এতে একজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। ভবনটির আঙিনায় কয়েকটি গাড়িতেও আগুন ধরে যায়।
জেলেনস্কি বলেছেন, এসব হামলা প্রমাণ করে রাশিয়া জ্বালানি-সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে আগ্রহী নয়। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বলেছেন, রাশিয়া যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে—এমন কোনো প্রমাণ এখনো দেখা যায়নি। এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, যুদ্ধবিরতিটি কাজ করছে না।


