আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল ২১ বছর বয়সী আরিফ শাহরিয়ার সৌমিকের। সেই উপলক্ষে কনের বাড়িতে সাজানো হয়েছিল বরবরণের আলোকসজ্জার গেট, সৌমিকের বাড়িতেও চলছিল বিয়ের আয়োজন। কিন্তু নতুন জীবনের স্বপ্ন পূরণের আগেই বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আসে তার মৃত্যুসংবাদ। মুহূর্তেই আনন্দের আয়োজন রূপ নেয় শোক আর আহাজারিতে।
গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়ার বাসিন্দা সৌমিকের বিয়েকে ঘিরে দুই পরিবারেই ছিল উৎসবের আমেজ। স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতিতে মুখর থাকার কথা ছিল বাড়ি। কিন্তু বিয়ের আগের দিনই সৌমিকের মৃত্যুতে সব আয়োজন থেমে যায়। সাজানো বাড়িতে এখন শুধুই শোকের ছায়া।
সৌমিক নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি। তার এমন মৃত্যুতে পরিবার ও পরিচিতজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
সৌমিকের বড় বোন শারমিন সুলতানা জানান, প্রায় এক মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরেছিলেন তার ভাই। চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। জ্বরের তীব্রতা অস্বাভাবিক বেশি ছিল বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
শারমিনের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সৌমিককে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের বিপরীতে মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বেলা ১টার দিকে চিকিৎসক মনির হোসেন মুরাদ ব্যবস্থাপত্র দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর ওষুধ নিয়ে সৌমিককে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
পরে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারমিন অভিযোগ করেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা রিকশায় বসে থাকতে হয় সৌমিককে। পরে ভেতরে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সৌমিকের মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তার বোন। তবে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অবহেলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক মনির হোসেন মুরাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার বিয়ের সাজে নতুন জীবনের সূচনা করার কথা ছিল সৌমিকের। কিন্তু বিয়ের আগের দিন তার মৃত্যুতে দুই পরিবারের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে।


