...|...|...

সারাদেশ

জিওব্যাগেও থামছে না যমুনার ভাঙন, নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:৩০
Shares
জিওব্যাগেও থামছে না যমুনার ভাঙন, নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার

বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভাঙন ঠেকাতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও টিউব ফেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

চোখের সামনে যমুনা নদীতে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে নদীপাড়ের চিত্র। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা ঠিকানা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন যমুনাপাড়ের মানুষ।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার শহড়াবাড়ি নৌবন্দর এলাকায় অব্যাহত রয়েছে যমুনার ভাঙন। এতে করে তিন মাসে প্রায় ৬০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীর আগ্রাসনে একের পর এক পাড় ভেঙে পড়ছে। যে উঠানে একসময় শিশুদের হাসি-আনন্দে মুখর থাকত, সেখানে এখন নদীর ঢেউ। যে জমিতে ফলত সোনালি ফসল, সেটিও চলে গেছে যমুনার গর্ভে।

স্থানীয়রা বলছেন, ভাঙনে অনেক পরিবার হারিয়েছে বসতভিটা ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন। কেউ শেষ সম্বল হারিয়ে আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন, আবার কেউ চোখের সামনে নিজের হাতে গড়া ঘর নদীতে তলিয়ে যেতে দেখছেন। ভাঙন ঠেকাতে গত তিন মাস ধরে নদীপাড়ে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে জিওব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙন থামছে না। বরং বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে পাড়ের নতুন নতুন অংশ। বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও ভাঙন ঠেকাতে পারছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড।

প্রতি বছর জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর পরিবর্তে যমুনার তীর রক্ষায় নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী ব্যবস্থা। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে শহড়াবাড়ি ঘাটসহ আশপাশের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদীপাড়ের বাসিন্দাদের কাছে যমুনা এখন শুধু একটি নদী নয়- এটি প্রতিদিন হারিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক। একের পর এক ভাঙনে ছোট হয়ে আসছে পাড়, আর তার সাথে মুছে যাচ্ছে মানুষের বসতভিটা, স্মৃতি ও শেকড়।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, নদীর ভাঙন স্থানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এখানে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তবে যমুনা নদীর ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।