দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনাসদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় দুদেশের সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই এবার পূর্ব উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, পিয়ংইয়ং তাদের পূর্ব উপকূল থেকে জাপান সাগরের দিকে প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সীমান্ত বিরোধ নিরসনে সিউল আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মাথায় এই সামরিক পদক্ষেপ নিল কিম জং উনের দেশ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় ওনসান এলাকা থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়।
টোকিওভিত্তিক সংবাদ সংস্থা কিওডো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও আলাদাভাবে অন্তত একটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের তথ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে পতিত হয়েছে।
উত্তেজনার নেপথ্যে সীমান্ত বিস্ফোরণ
গত ২১ সেপ্টেম্বর দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী ভারী সামরিক পরিবেষ্টিত এলাকা বা ডিমিলিটারাইজড জোনে এক মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনাসদস্য গুরুতর আহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয়।
চলতি মাসের শুরুর দিকে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাতিসংঘের যৌথ তদন্তে সিদ্ধান্তে আসা হয় যে, উত্তর কোরিয়া এক বছরেরও বেশি সময় আগে ওই স্থানে মাইনগুলো পুঁতে রেখেছিল। এই ঘটনার পর সিউলের পক্ষ থেকে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়।
তবে পিয়ংইয়ং এই তদন্ত প্রতিবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে উত্তর কোরিয়া উল্টো সিউলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরণের এই ঘটনা সাজানোর অভিযোগ তোলে।
জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি কিম সং এক চিঠিতে লেখেন, সন্দেহজনক ‘মাইন বিস্ফোরণ ঘটনার’ অহেতুক দায় আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া যে উসকানিমূলক আচরণ করছে, তা তাদের নিজস্ব সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের শামিল।
তিনি সতর্ক করে বলেন, তাদের সার্বভৌমত্বে কোনো আঘাত আসলে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে পিয়ংইয়ং।
কিম সং নিরাপত্তা পরিষদকে আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার এই দাবি মূলত কোরীয় উপদ্বীপে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার দায় এড়ানোর একটি সস্তা নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়।


