...|...|...

জাতীয়

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:৪৭ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:২৩
Shares
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আজ (২৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেলে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে জিয়া পরিবারের চার দশকের বেশি সময়ের সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। 

এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছিলেন। জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে এবার এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণে মূলত বাংলাদেশের অর্থনীতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়গুলো সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বৈশ্বিক ইস্যুগুলোও তাঁর বক্তব্যে জোরালোভাবে উঠে আসবে।

এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ইতোমধ্যে তিনি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠকে জ্বালানি সংকটসহ বাংলাদেশের অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া ভুটান, মালদ্বীপ ও হাইতির শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে বৈঠক করেছেন তিনি।

পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সোথেও তার বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সাথেও তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠকের কথা রয়েছে।

ভাষণের আরেকটি প্রধান দিক হবে দীর্ঘ আট বছর ধরে চলে আসা রোহিঙ্গা সংকট। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ওপর মানবিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়ছে। এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরকালে তিনি জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সাথে বৈঠক করেছেন এবং জাতিসংঘ সদর দফতরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পাশাপশি সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবেন। আন্তর্জাতিক মহলের মনযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের মূল দায় ও সমাধানের বিষয়টি মিয়ানমারের ওপর রাখাই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।