জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, বিএনপি ধীরে ধীরে জনগণের প্রত্যাশা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দলটি পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পটুয়াখালীতে এনসিপির জেলা শাখার আয়োজনে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গত ছয় মাসে বিএনপির সামনে জনসমর্থন আরও বাড়ানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় দলটি গণআকাঙ্ক্ষা থেকে সরে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা তাদের জন্য কঠিন হবে।
বিএনপির কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলেও আওয়ামী লীগের সাথে দলটির তুলনা করতে চান না বলে জানান এনসিপির এই নেতা। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, মোদি বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
সারজিস আলমের দাবি, ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানির অভিযোগ রয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগকে বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘ক্লোজড চ্যাপ্টার’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিএনপির অন্যায়ের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, দলটির কেউ চাঁদাবাজিতে জড়ালে তাকে চাঁদাবাজ, জমি দখলে যুক্ত হলে দখলদার এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তাকে অপব্যবহারকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই অবস্থান থাকবে বলে জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপির কোনো ধরনের সমঝোতা হলে তা রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেন সারজিস আলম। তার ভাষ্য, ভোটের সমীকরণে খুনি ও স্বৈরাচারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা হলে এর ফল উল্টো হতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সব রাজনৈতিক দলকেই এর প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে এবং ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপিকেই সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ সামলাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ ও বিএনপি সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে শহীদ পরিবার এবং আহতদের নিয়ে আবারও রাজপথে নামার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
অনুষ্ঠানে আজমেরী হক বাঁধনকে সরকারি উদ্যোগে আইনগত সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান এনসিপির এই কেন্দ্রীয় নেতা। একই সাথে অভিযুক্ত অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি নিয়ে যে সংকট চলছে, তা মোকাবিলায় বিএনপিকে সহযোগিতা করার আগ্রহের কথাও জানান সারজিস আলম। তবে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি কেনা এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ লুটপাটের অভিযোগের সমালোচনা করেন তিনি।
তার অভিযোগ, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর মতো কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। পরে সেই পরিস্থিতির দায় বিরোধীদের ওপর চাপিয়ে তাদের দমন করার রাজনীতি আর গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জনগণের দুর্ভোগকে কেন্দ্র করে লুটপাটের রাজনীতি করা হলে মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে বলেও সতর্ক করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক।
পটুয়াখালী জেলা এনসিপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন দলটির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন। কর্মশালা নিয়ে বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার। এ ছাড়া যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন মঞ্জুসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় পটুয়াখালী জেলা এনসিপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।



