...|...|...

স্বাস্থ্য

ছোট ক্ষতও হতে পারে প্রাণঘাতী: জানুন টিটেনাস ইনজেকশনের সঠিক সময়

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:৫৫
Shares
ছোট ক্ষতও হতে পারে প্রাণঘাতী: জানুন টিটেনাস ইনজেকশনের সঠিক সময়

ছবি: সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনের নানা কর্মকাণ্ডে বা হঠাৎ ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় শরীরে কাটাছেঁড়া ও ক্ষতের সৃষ্টি হওয়া একটি সাধারণ ঘটনা। রান্নাবান্নার সময় হাত কেটে যাওয়া, রাস্তায় পড়ে ছিলে যাওয়া কিংবা পেরেক ফুটে গভীর ক্ষত তৈরি হওয়া—এমন পরিস্থিতি প্রায়ই ঘটে থাকে। তবে যেকোনো ক্ষত থেকে হতে পারে টিটেনাস বা ধনুষ্টংকার, যা Clostridium tetani নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে সৃষ্টি হয়। এই রোগটি স্নায়ুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে পেশীতে তীব্র খিঁচুনি ও যন্ত্রণা সৃষ্টি করে। সঠিকভাবে প্রতিরোধ না করলে এটি প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই টিটেনাস বা ধনুষ্টংকার কি শতভাগ নিরাময়যোগ্য, কোন ক্ষতগুলো ভয়ানক এবং কখন কী করণীয়? সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ব্যাপারে কথা বলেছেন ভারতের হাওড়ার নারায়ণা হাসপাতালের অ্যাডাল্ট ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. অনির্বাণ কর্মকার।

ধনুষ্টংকার কি শতভাগ নিরাময়যোগ্য

টিটেনাস স্নায়ুতন্ত্রের একটি রোগ, যা পেশীতে যন্ত্রণাদায়ক টান এবং খিঁচুনি সৃষ্টি করে; বিশেষ করে চোয়াল ও ঘাড়ে। যথা সময় চিকিৎসা না করালে এটি অধিকতর জটিল হতে পারে। ডা. অনির্বাণ বলেন, টিকাদান এবং ক্ষতের সঠিক যত্নের মাধ্যমে টিটেনাস প্রতিরোধ করা যায়। আঘাতের পর টিটেনাস ভ্যাকসিনের প্রয়োজন কি-না, সেটি নির্ভর করে আঘাতের ধরন ও ব্যক্তির টিকাকরণের ইতিহাসের ওপর।

কোন ক্ষতগুলো গুরুতর

সব কাটাছেঁড়াতে টিটেনাস ইনজেকশনের প্রয়োজন হয় না। সামান্য ও পরিষ্কার ক্ষত কম বিপজ্জনক। কিন্তু গভীর বা দূষিত ক্ষতগুলো অবহেলা করা ঠিক নয়। যেমন- পেরেক ঢুকে পড়া বা পা দেয়ার কারণে গভীর ক্ষত, মাটি, ময়লা, মল বা লালা দ্বারা দূষিত ক্ষত, পশু বা মানুষের কামড়, পুড়ে যাওয়া, থেঁতলে যাওয়া আঘাত, হাড় ভাঙা বা কম্পাউন্ড ফ্র্যাকচার এবং মৃত ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুযুক্ত ক্ষত। এ কারণে রাস্তায় আঘাত পাওয়া হলে, বিশেষ করে কাদা বা বালিতে ঢাকা ক্ষত ছোট হলেও অবহেলা করা উচিত নয়।

কখন বুস্টার ডোজের প্রয়োজন

টিটেনাস ডোজের প্রাথমিক সিরিজ সম্পন্ন করলে শেষ ডোজটি কখন দেয়া হয়েছিল, তা গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কনট্রোলের ক্ষত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সুপারিশ অনুযায়ী, শেষ টিটেনাস ভ্যাকসিন যদি ১০ বা এরও বেশি বছর আগে দেয়া হয়ে থাকে এবং আপনার ক্ষতটি পরিষ্কার ও অল্প হয়, তাহলে একটি বুস্টার ডোজের প্রয়োজন।

অপরিচ্ছন্ন বা বড় ক্ষতের ক্ষেত্রে শেষ ডোজ নেয়ার পর যদি পাঁচ বছর বা এরও বেশি সময় হয়ে থাকে, তাহলে একটি বুস্টার ডোজ নেয়ার জোরালো পরামর্শ দেয়া হয়। আবার কোনো ব্যক্তির টিকাকরণের ইতিহাস অজানা থাকলে, তারা যদি কখনো টিকা না নিয়ে থাকেন বা তাদের প্রাথমিক সিরিজ অসম্পূর্ণ থাকে, তাহলে ক্ষতের ধরন অনুযায়ী টিকাকরণের পরামর্শ দেয়া যেতে পারে।

এছাড়া যাদের পর্যাপ্ত টিকাকরণ হয়নি, তাদের গুরুতর বা দূষিত ক্ষতের ক্ষেত্রে টিটেনাস ইমিউন গ্লোবুলিনের প্রয়োজন হতে পারে। যা তাৎক্ষণিক অস্থায়ী সুরক্ষা প্রদান করে। একই সময়ে ভ্যাকসিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উদ্দীপিত করে থাকে।

লক্ষণের জন্য অপেক্ষা না করা

ক্ষতের যত্ন নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতটি অতি গুরুত্বের সাথে পরিষ্কার করুন এবং কোনো ময়লা বা বাহ্যিক বস্তু থাকলে তা সরিয়ে ফেলুন। মৃত টিস্যু থাকলে তা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে টিটেনাস টিকাকরণ প্রতিস্থাপন করা ঠিক নয়। টিটেনাসের লক্ষণগুলো সাধারণত আঘাতের ক’দিন পর দেখা দিতে পারে। কেউ কেউ আবার নির্দিষ্ট কোনো আঘাতের কথা মনেও করতে পারেন না। চোয়ালের শক্ত ভাব, খাবার গিলতে অসুবিধা বা যন্ত্রণাদায়ক পেশী খিঁচুনির সমস্যায় দ্রুত চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন। আর টিটেনাস একটি গুরুতর বিষয় এবং এটিকে যথাযথ গুরুত্ব সহকারে চিকিৎসা করা উচিত।

ক্ষত ড্রেসিং ও ব্যান্ডেজের নিয়ম

কোনো ক্ষতকে শুধু তার আকার দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়। ক্ষতের গভীরতা, দূষণের মাত্রা এবং টিকাকরণের ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ। নিশ্চিত না হলেও, যেমন- কোনো গভীর ক্ষত, রাস্তায় পড়ে যাওয়ার কারণে ক্ষত, কামড়, পুড়ে যাওয়া বা অন্য কোনো ধরনের দূষিত ক্ষতের ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

আঘাত ছোট হোক বা বড়, প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি টিটেনাসের ইতিহাস পর্যালোচনা করে সঠিক সময়ে ইনজেকশন নেওয়া জরুরি। যেকোনো সন্দেহজনক ক্ষতের ক্ষেত্রে অবহেলা না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।