চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সপ্তম কেবিনেটের এক বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে আজ। বছরজুড়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নানা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতাও ছিল সংসদটির। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে পরবর্তী চাকসু নির্বাচন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মেয়াদ শেষের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিধান থাকলেও এখনো ঘোষণা করা হয়নি নির্বাচনের রোডম্যাপ। এর মধ্যে চলতি বাজেটে বরাদ্দ না থাকায় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার, যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি, শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, ছাত্র সংসদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে নিয়মিত নির্বাচনের বিকল্প নেই।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন চাকসুর নেতারাও। দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা না করা হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, আমাদের অন্যতম একটি ইশতেহার ছিল চাকসু নির্বাচনকে ক্যালেন্ডারভুক্ত করা। আমরা প্রথম কার্যনির্বাহী সভা থেকে এ দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এটি বাস্তবায়ন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তিনি আরও বলেন, অবশ্যই আমরা চাকসু নির্বাচন চাই এবং তা দ্রুত সময়ের মধ্যে দিতে হবে। কারো ষড়যন্ত্র বা ভয়-ভীতির কারণে যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন থেকে পিছিয়ে যায়, শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।
এদিকে পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। তিনি বলেন, ‘চাকসুকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। কারণ, চাকসুর অধিকাংশ কাজই ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত সম্পদের মধ্যে চাকসুকে যথাসম্ভব কার্যকর রাখার চেষ্টা করেছি। আমার মতে, চাকসু অনেক বেশি কার্যকর একটি ছাত্র সংসদ ছিল।’
পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আগামী চাকসু নির্বাচন নিয়ে আমাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। আমাদের বক্তব্য একটাই-শান্ত, স্থিতিশীল ও নির্বাচনের পরিবেশ বজায় থাকলে আমরা যথাসময়ে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’
চাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে এক বছর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে। তবে এখনো নির্বাচনের সময়সূচি বা রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়নি। পাশাপাশি চলতি বাজেটে নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ না থাকায় নির্ধারিত সময়ে ভোট আয়োজন সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, চাকসুর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকলে যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

