প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে চাকরির বাজার। নতুন প্রযুক্তি, কাজের ধরন ও নিয়োগকর্তাদের চাহিদার পরিবর্তনের সাথে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সুযোগ ও প্রতিযোগিতা। ফলে আগামী দিনে চাকরির বাজারে টিকে থাকতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন যোগাযোগ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা। আর এসব যোগ্যতা নিয়োগকর্তার সামনে তুলে ধরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগগুলোর একটি হলো চাকরির সাক্ষাৎকার। তাই কাঙ্ক্ষিত চাকরি পেতে সাক্ষাৎকারের আগে ১০টি কৌশল জানা ও প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানুন
যে প্রতিষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিতে যাচ্ছেন, আগে থেকেই প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। তাদের কার্যক্রম, কাজের ধরন, কাঠামো এবং আপনি যে পদে আবেদন করেছেন সেই পদের দায়িত্ব সম্পর্কে প্রাথমিক ধরণা থাকা প্রয়োজন।
নতুন কিছু শেখার আগ্রহ দেখান
আগামী দিনের চাকরির বাজারে পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। সাক্ষাতকারে এমনভাবে কথা বলুন, যাতে বোঝা যায় নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে এবং নতুন পরিস্থিতি থেকে শেখার ব্যাপারে আপনি আগ্রহী।
শুধু উত্তর নয়, প্রশ্নও করুন
সাক্ষাতকারে নিয়োগকর্তা প্রশ্ন করবেন-এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রার্থীও প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করতে পারেন। যেমন যে পদে যোগ দিতে চাইছেন সেখানে আপনার দায়িত্ব কী হবে, টিমটি কীভাবে কাজ করে বা ভবিষ্যতে শেখার সুযোগ কেমন-এসব বিষয়ে জানতে পারেন।
আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠুক আচরণে
সাক্ষাতকারে শুধু কথাই নয়, আপনার বডি ল্যাঙ্গুয়েজও গুরুত্বপূর্ণ। সোজা হয়ে বসা, স্পষ্টভাবে কথা বলা এবং স্বাভাবিক চোখের যোগাযোগ আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ ঘটায়। আচরণে যেন অতিরিক্ত উদ্বেগ্নতা প্রকাশ না পায়, সেদিকেও খেয়াল রাখুন।
নিজের দক্ষতা সংক্ষেপে তুলে ধরুন
নিজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, যোগ্যতা সম্পর্কে বলতে গেলে দীর্ঘ বর্ণনায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই্ যে পদের জন্য আবেদন করছেন, তার সাথে সম্পর্কিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরুন।
কাজের প্রতি আগ্রহ দেখান
শুধু চাকরিটি প্রযোজন-এমন মনোভাব না দেখিয়ে কাজটি সম্পর্কে আপনার আগ্রহ ও শেখার ইচ্ছা প্রকাশ করুন। এতে নিয়োগকর্তা আপনার মানসিকতা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।
পোশাকেও থাকুক পেশাদারিত্ব
সাক্ষাতকারে যাওয়ার সময় পোশাক পরিপাটি ও পরিস্থিতির সাথে মানানসই হওয়া উচিত। সাধারণত অফিশিয়াল পোশাকই বেশি উপযুক্ত। প্রথম দেখাতেই যেন আপনার মধ্যে পেশাদারিত্বের ছাপ থাকে।
প্রশ্নে উত্তর না জানলে ঘাবড়াবেন না
সাক্ষাতকারে এমন কোনো প্রশ্ন আসতেই পারে যার উত্তর আপনার জানা নেই। সে ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দেওয়ার বদলে বিনয়ের সঙ্গে জানিয়ে দিন যে বিষয়টি আপনার জানা নেই। প্রয়োজনে উত্তরটি ভেবে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় নিতে পারেন।
প্রশ্নকর্তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন
সাক্ষাতকারের শুরু থেকেই প্রশ্নকর্তা আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিতে পারেন। তাই কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনুন। কোনো তথ্য বুঝতে না পারলে প্রয়োজনে আবার জানতে চান।
তাড়াহুড়ো নয়, ধৈর্য ধরুন
সাক্ষাতকারের সময় ধীরস্থির ও সংযত থাকা জরুরি। চাকরিটি আপনার খুব প্রয়োজন হলেও প্রশ্নকর্তার সামনে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা মরিয়া ভাব প্রকাশ করা আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শেষ মুহূর্তেও গুরুত্বপূণ কিছু বিষয়
সাক্ষাৎকার শেষে যদি নিয়োগকর্তা কিছু জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনার কোনো প্রশ্ন আছে কিনা’, তখন সরাসরি ‘না’ বলার বদলে আগে থেকে ভেবে রাখা প্রাসঙ্গিক কোনো প্রশ্ন করতে পারেন।
সাক্ষাৎকার শেষ করে বের হওয়ার সময়ও আচরণে পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন। কারণ চাকরির সাক্ষাৎকার শুধু প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার পরীক্ষা নয় বরং একজন প্রার্থী কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন, কতটা আত্মবিশ্বাসী, শেখার আগ্রহ কতটা এবং নতুন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা কেমন-এসবও নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

