...|...|...

রাজধানী

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

চাঁদা না পেয়ে ভুক্তভোগীকেই চাঁদাবাজ বানিয়ে পুলিশে দিলেন বিএনপি নেতারা

টাইমস টুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২৮
Shares
চাঁদা না পেয়ে ভুক্তভোগীকেই চাঁদাবাজ বানিয়ে পুলিশে দিলেন বিএনপি নেতারা

মিরপুর-১ এলাকায় লেগুনা স্ট্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে মালিকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ইয়াকুব আলীর দাবি, প্রতিটি লেগুনা থেকে প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় ৬০ থেকে ৭০ জন মিলে তাকে মারধর করেন। পরে উল্টো তাকেই চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মুক্তি পাওয়ার পর হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ইয়াকুব আলী। তিনি বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ইয়াকুব আলী জানান, গত ৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার লেগুনার চালক গাড়িতে সমস্যার কথা জানালে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে থাকা কয়েকজন প্রতি গাড়ি থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। তিনি এতে আপত্তি জানালে তাকে এবং লেগুনার আরও দুই মালিক নজরুল ইসলাম ও বাবুলকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাদের লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি করার হুমকিও দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে অস্ত্র বের করার দৃশ্য রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইয়াকুব আলীর অভিযোগ, মারধরের পর তাকেই চাঁদাবাজ হিসেবে দারুস সালাম থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মারধরের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে আদালতে পাঠানো হলেও চাঁদাবাজির অভিযোগের পক্ষে তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় তিনি মুক্তি পান।

আজ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

মুক্তির পর হামলার ঘটনায় অভিযোগ জানাতে দারুস সালাম থানায় গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে দাবি করেন ইয়াকুব আলী। পরে তিনি পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনারের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ গ্রহণ না করার বিষয়ে দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন জানান, মারধরের সময় ঘটনাস্থল থেকে ইয়াকুব আলীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি থানায় অভিযোগ দিতে আসেন। তবে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি না থাকায় তা গ্রহণ করা হয়নি। ইয়াকুব আলীর দেওয়া অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের অভিযোগ, ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত একটি গোষ্ঠী মিরপুর-১ এলাকার পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া এবং নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার জন্য মালিকদের চাপ দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য মাসে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও তাদের অভিযোগ।

ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় বিপ্লব, সোলেমান দেওয়ান, ফারুক হোসেন, মহব্বত আলী, মাভেল ভূঁইয়া, তৈয়ব আলী, আলমগীর হোসেন, কানা পলাশ, রাসেল, শামীম ও মজিবর রহমানসহ ৬০ থেকে ৭০ জনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

নিজেকে বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দেওয়া সাইদুর রহমান জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনের সাবেক কিংবা বহিষ্কৃত নেতা। তাদের মধ্যে সোলেমান দেওয়ান শাহ আলী থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, মহব্বত আলী দারুস সালাম থানা শ্রমিক দলের বর্তমান সদস্যসচিব এবং মাভেল ভূঁইয়া শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তারা চাঁদা আদায় ও স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

সাইদুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, লেগুনা স্ট্যান্ডের বাইরেও মিরপুর-১ এলাকার কাঁচাবাজার, ফুটপাত, ভ্যানগাড়ি রাখার জায়গা এবং বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবসা থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাঁচটি স্ট্যান্ডে অবস্থান করে। কেউ প্রতিবাদ করলে তারা হামলা চালান বলে অভিযোগ তার। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ লেগুনা মালিকেরা স্ট্যান্ডে যেতে পারছেন না। সমস্যা সমাধানে সরকার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তারা।

মারধরের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সোলেমান দেওয়ান। তিনি জানান, রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় বিতর্কিত হওয়ার পর একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে এবং কাউন্সিলর নির্বাচনে বাধা দিতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে এস এ সিদ্দিক সাজু জানান, লেগুনাশ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তারা এতে জড়িত নন বলেও তিনি জেনেছেন। তার অনুসারী থাকতে পারেন, তবে তারা কেউ লেগুনা ব্যবসা কিংবা ওই ঘটনার সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি।