...|...|...

ধর্ম

চলে যাওয়া আপনজনের জন্য জীবিতদের সবচেয়ে বড় উপহার দোয়া

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৮:৩৭ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:২৭
Shares
চলে যাওয়া আপনজনের জন্য জীবিতদের সবচেয়ে বড় উপহার দোয়া

চলে যাওয়া আপনজনের জন্য জীবিতদের সবচেয়ে বড় উপহার দোয়া। ছবি: সংগৃহীত

প্রিয়জনের মৃত্যু মানুষের জীবনে গভীর শোক ও বেদনা নিয়ে আসে। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে মৃত্যু কোনো শেষ নয়, বরং এটি আখিরাতের জীবনের সূচনা। তাই মৃত ব্যক্তির জন্য শুধু শোক প্রকাশ নয়, বরং তার মাগফিরাত ও শান্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

মুমিনদের বিশ্বাস, জীবিত মানুষের আন্তরিক দোয়া মৃত স্বজনের জন্য আল্লাহর রহমত পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হতে পারে। বিশেষ করে সন্তান যদি তার মৃত বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করে, তা মৃত ব্যক্তির জন্য বিশেষ মর্যাদার বিষয়।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তাই মৃত্যুর বাস্তবতা মেনে নিয়ে আখিরাতের প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি মৃতদের জন্য দোয়া করাও একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি বিষয় থেকে সওয়াব অব্যাহত থাকে—সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, সন্তানের দোয়া মৃত পিতা-মাতার জন্য বড় উপকারের কারণ হতে পারে।

ইসলামের ইতিহাসেও মৃত ও পূর্বসূরিদের জন্য দোয়ার গুরুত্ব পাওয়া যায়। হযরত ইবরাহিম (আ.) ও হযরত নুহ (আ.) মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তাদের এই আমল মুসলমানদের জন্য একটি অনুকরণীয় শিক্ষা।

এছাড়া কবর জিয়ারতের সময় মৃতদের জন্য দোয়া করা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ। কবরস্থানে গিয়ে মৃতদের জন্য শান্তি, ক্ষমা ও রহমত কামনা করার মাধ্যমে জীবিতরা তাদের আপনজনদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

মৃত স্বজনদের জন্য দোয়া শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও আত্মিক বন্ধনের প্রকাশ। তাই নিয়মিতভাবে বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন ও সব মৃত মুসলমানের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করা উত্তম আমল।