...|...|...

বিশ্ব

গাজার ২০ হাসপাতালে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ, বিপর্যয়ের মুখে চিকিৎসাব্যবস্থা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৩৬
Shares
গাজার ২০ হাসপাতালে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ, বিপর্যয়ের মুখে চিকিৎসাব্যবস্থা

ছবি: সংগৃহীত

গাজার ২০টিরও বেশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছেন। 

বাতাসংস্থা আনাদোলু জানায়, এক বিবৃতিতে বুরশ বলেন, গাজা উপত্যকায় জ্বালানি ও তেলের তীব্র সংকটের মধ্যে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে এসব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডিজেল সরবরাহ স্থগিত করা হবে।

তিনি বলেন, গাজায় বর্তমানে যে সামান্য পরিমাণ জ্বালানি পৌঁছাচ্ছে, তা দিয়েই হাসপাতালগুলো কোনোমতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বুরশ সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হলে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী জেনারেটর অচল হবে না, বরং অপারেশন থিয়েটার, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

তিনি জানান, এর ফলে ইনকিউবেটরে থাকা নবজাতক, ডায়ালাইসিস রোগী, আহত ব্যক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং ওষুধ ও টিকা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় হিমায়িত ব্যবস্থাও অচল হয়ে যেতে পারে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ জেনারেটরের জন্য তেল ও যন্ত্রাংশের সংকটও তীব্র হয়েছে। গত কয়েক দিনে পর্যাপ্ত জ্বালানি, তেল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে বেশ কয়েকটি জেনারেটর কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সচল রাখতে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে সেই ব্যবস্থাও এখন হুমকির মুখে।

গাজার কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তপথে জ্বালানি ও মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কেরেম শালোম ও রাফাহ ক্রসিংয়ের সীমিত কার্যক্রমের কারণে প্রয়োজনীয় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও জ্বালানি প্রবেশের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি সংকট নতুন করে অঞ্চলটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও গভীর সংকটের মুখে ফেলেছে।