গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত হত্যা মামলায় তিন ভাইয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে প্রত্যেকের ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও ছয়মাস করে সশ্রম কারাদণ্ডে আদেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান। এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকালে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোল্ল্যা সাইফুল আলম এ আদেশ দেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাড়াইকান্দি গ্রামের মৃত ইব্রাহীম ব্যাপারির ছেলে তিন সহোদর আবদুল হালিম (৩৯), আবদুল হামিদ (৩৭) ও মাহাবুর রহমান (৩৫)। এসময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদেরকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত ও মামলা নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ৪ জানুয়ারি সকালে সুন্দরগঞ্জের শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর (বাড়াইকান্দি) গ্রামে আসামিরা বিবাদমান একটি জমির আইল উঠাতে গেলে বাধা দেয় তাদের ওয়ারিশ শাহাদাৎ হোসেন ও তাদের স্বজনরা। এসময় আসামিদের কোদাল ও লাঠির আঘাতে গুরতর আহত হন প্রতিপক্ষের শাহাদাৎ হোসেন, সাজেদা বেগম, সামছুল হক ও আবেদা বেগম।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে শাহাদাৎ হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সেদিনই উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে রেফার করেন। পরদিন ৫ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাৎ হোসেন মারা যান।
এ ঘটনায় ওই দিনই সুন্দরগঞ্জ থানায় ১৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্বজন আতাউর রহমান। পরে তদন্ত শেষে ১৩ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় থানা পুলিশ। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে বুধবার বিকালে এ রায় দেন আদালত। রায়ে ১৩ আসামির মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন ও ১০ আসামিকে খালাস দেন বিচারক।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান বলেন, মামলার দীর্ঘ ১৪ বছর পর সাক্ষ্য প্রমাণের শুনানি শেষে এ মামলায় তিন ভাইকে যাবজ্জীবন ও প্রত্যেকের ১০ হাজার টাকা করে দণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাস সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।


