পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে বিএনপির এক নেতার বক্তব্যের শেষাংশে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
ওই নেতা হলেন রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন নোয়াব হাওলাদার।
জানা গেছে, শনিবার (১৫ আগস্ট) বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বক্তব্য দেন ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন নোয়াব।
পরে তার বক্তব্যের শেষ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রবিবার (১৬ আগস্ট) রাতে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ১২ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে জাকির হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আমার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য এখানেই শেষ করছি। সকলকে ধন্যবাদ। আসসালামু আলাইকুম। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’
ভিডিওতে তার বক্তব্যের পর উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মীকে হাসতে দেখা যায়। আবার কয়েকজন হাতের ইশারায় তাকে থামানোর চেষ্টা করছেন বলেও দেখা যায়।
ভিডিওটি ‘তালাশ বিডি’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকেও প্রচার করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, বিএনপি নেতা জাকির হোসেন নোয়াব বক্তব্যের শেষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়েছেন।
তবে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার দাবি, জাকির হোসেন ‘জয় বাংলা’ বলেই বক্তব্য শেষ করেছেন। ভিডিওতে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি স্পষ্ট নয় বলেও দাবি করেন তারা। তাদের মতে, ভিডিওর শেষাংশের শব্দ অস্পষ্ট হওয়ায় বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন নোয়াব হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তিনি বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনিই ভালো বলতে পারবেন। আমি এ বিষয়ে কিছু বলব না।’
রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান ফরাজির বক্তব্য জানতে সোমবার বিকেলে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকরা। তবে ভিডিওটির বক্তব্যের শেষাংশের শব্দের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতার পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।


