...|...|...

লাইফস্টাইল

খাবার খাওয়ার পর গ্রিন টি পান করলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে?

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:০০
Shares
খাবার খাওয়ার পর গ্রিন টি পান করলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে?

ছবি: সংগৃহীত

গ্রিন টি স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় একটি পানীয়। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে খাবার খাওয়ার পরপরই গ্রিন টি পান করার অভ্যাস থাকলে একটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। চায়ে থাকা কিছু উপাদান খাবার থেকে শরীরে আয়রন শোষণের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে বা এ ধরনের ঘাটতির ঝুঁকি বেশি, তাদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রিন টি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিষয়টি এমন নয়। বরং কখন পান করছেন, তার ওপর এর কিছু প্রভাব নির্ভর করতে পারে। খাবারের পুষ্টিগুণ থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে গ্রিন টি পানের সঠিক সময় সম্পর্কে জানা দরকার।

গ্রিন টি কীভাবে আয়রন শোষণে প্রভাব ফেলে?

গ্রিন টিতে পলিফেনল নামের কিছু প্রাকৃতিক যৌগ রয়েছে। এর মধ্যে ট্যানিনজাতীয় উপাদানও আছে, যা পরিপাকতন্ত্রে খাবারের আয়রনের সাথে যুক্ত হয়ে শরীরে তা শোষিত হওয়ার পরিমাণ কমাতে পারে।

এই প্রভাব মূলত নন-হিম আয়রনের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। মসুর ডাল, ছোলা, শিম, বিভিন্ন বীজ ও সবুজ শাকসবজির মতো উদ্ভিদজাত খাবারে এই ধরনের আয়রন পাওয়া যায়। অন্যদিকে, মাংস ও মাছের মতো প্রাণিজ খাবারে হিম আয়রন থাকে, যা সাধারণত শরীর তুলনামূলক সহজে শোষণ করতে পারে।

খাবারের সাথে অথবা খাওয়ার পরপরই গ্রিন টি পান করলে এর পলিফেনল খাবারে থাকা নন-হিম আয়রনের শোষণ কমাতে পারে। তবে এর প্রভাব সবার ক্ষেত্রে সমান নয়। চায়ের পরিমাণ, খাবারের ধরন এবং শরীরে আগে থেকেই কতটা আয়রন রয়েছে, তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।

এ কারণে গ্রিন টি পান করলেই শরীরে আয়রনের ঘাটতি হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে নিয়মিত আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সাথে চা পান করলে দীর্ঘমেয়াদে আয়রন গ্রহণের কার্যকারিতা প্রভাবিত হতে পারে।

খাবারের পর গ্রিন টি পান করার ক্ষেত্রে কারা সতর্ক থাকবেন?

যাদের শরীরে পর্যাপ্ত আয়রন রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে খাবারের পর গ্রিন টি পান করা সাধারণত বড় উদ্বেগের কারণ নয়। কিন্তু কিছু মানুষের জন্য পানীয়টি গ্রহণের সময় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

নিরামিষভোজী ব্যক্তি: যারা প্রধানত উদ্ভিদজাত খাবার থেকে আয়রন গ্রহণ করেন, তাদের খাবার থেকে আয়রন শোষণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আয়রনের ঘাটতি বা রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত ব্যক্তি: যাদের শরীরে আয়রনের মাত্রা কম অথবা ফেরিটিনের পরিমাণ কম, তাদের জন্য খাবারের সাথে চা পান করার অভ্যাস পরিবর্তন করা সহায়ক হতে পারে।

অতিরিক্ত মাসিকের রক্তপাত হয় এমন নারী: নিয়মিত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শরীরে আয়রনের ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই তাদের আয়রনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ ও শোষণের বিষয়ে সচেতন থাকা দরকার।

গর্ভবতী নারী: গর্ভাবস্থায় শরীরের আয়রনের চাহিদা বেড়ে যায়। এ সময় পর্যাপ্ত আয়রন গ্রহণের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার ও পানীয়ের সময় নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

খাবারের কতক্ষণ পর গ্রিন টি পান করবেন?

গ্রিন টি পান করার অভ্যাস থাকলে তা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং খাবারের সঙ্গে পান না করে কিছুটা সময় বিরতি দিয়ে পান করা যেতে পারে।

দুপুরের বা রাতের খাবারের পর প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে গ্রিন টি পান করা একটি ব্যবহারিক উপায়। এতে খাবার থেকে আয়রন শোষণে চায়ের সম্ভাব্য বাধা কমানো যেতে পারে। তবে এই সময়সীমা সবার জন্য একই রকম ফল দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

কালো চা ও কফিতেও পলিফেনল থাকে। তাই এগুলোও খাবার থেকে বিশেষত উদ্ভিদজাত আয়রন শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে।

যাদের আয়রনের ঘাটতি শনাক্ত হয়েছে বা চিকিৎসক আয়রন সাপ্লিমেন্ট দিয়েছেন, তাদের চা-কফি পানের সময় নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে চা বা কফি পান করলে আয়রন শোষণ কমতে পারে। এ ক্ষেত্রে ওষুধের নির্দেশনা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত।