নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি জানিয়েছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দেখে শত্রুরা বিস্মিত হবে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ জানায়, শনিবার (৭ নভেম্বর) তেহরানের সারচেসমেশ কালচারাল কমপ্লেক্সে ‘আইআরজিসি অ্যারোস্পেস উইক’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মোহেব্বি জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার ওপর আগে যে সীমাবদ্ধতা ছিল, তা এখন প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগে দেশটি নিজ উদ্যোগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমিত রেখেছিল।
তবে ইরানের হাতে বর্তমানে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি তিনি।
আইআরজিসি মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব হলো যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করা।’ নতুন কোনো সংঘাত শুরু হলে ইরান তার সামরিক শক্তির নতুন দিক তুলে ধরবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অগ্রগতি তুলে ধরে মোহেব্বি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময় দেশটির বাহিনী শত্রুপক্ষের ২৬০টি উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছে। এ ছাড়া গত এক থেকে দুই সপ্তাহে সাতটি এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন অক্ষত অবস্থায় ভূপাতিত করার দাবিও করেন তিনি। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
মোহেব্বি জানান, ইরান ইতিমধ্যে মাটির নিচে অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে তুলেছে। শত্রুপক্ষের বোমাবর্ষণের মধ্যেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিজস্ব প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে ইরান এখন অস্ত্র আমদানিকারক দেশ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে আরমান ক্ষেপণাস্ত্র, ৩৫৮ ড্রোন এবং খোরদাদ-৩ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
আইআরজিসি মুখপাত্রের হুঁশিয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে সামরিক হামলা চালালে ইরান এমন জবাব দেবে, যার প্রভাব বহু বছর ধরে অনুভূত হবে।


