...|...|...

বিশ্ব

ক্যানসারেই প্রাণ গেল ক্যানসার গবেষকের

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:৩৬
Shares
ক্যানসারেই প্রাণ গেল ক্যানসার গবেষকের

ডা. রচনা শ্রফ। ছবি: সংগৃহীত

যাকে সুস্থ করে তুলতে তিনি সারাজীবন উৎসর্গ করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই মরণব্যাধি ক্যানসারই কেড়ে নিল তার প্রাণ। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট ভারতীয় বংশোদ্ভূত গবেষক ডা. রচনা শ্রফ মাত্র ৪৭ বছর বয়সে মারা গেছেন।

গালফ নিউজের তথ্যমতে, অ্যারিজোনা ক্যানসার সেন্টারের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর এবং অগ্ন্যাশয় ও পিত্তনালীর ক্যানসার চিকিৎসায় অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ছিলেন ডা. রচনা শ্রফ। তার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেছে অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি ক্যানসার গবেষণা ও রোগী সেবায় তার অসামান্য অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

‘পিপল’ ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে নিজের শরীরে একটি ফোলা লিম্ফ নোড লক্ষ্য করেন ডা. শ্রফ। পরবর্তীতে বিস্তারিত পরীক্ষার পর তার শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি ধরা পড়ে এবং তাকে অ্যাডভান্সড অ্যাডেনোকার্সিনোমা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তবে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পরও তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্যানসার গবেষণা কার্যক্রম এবং জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগগুলো চালিয়ে গেছেন।

কে ছিলেন ডা. রচনা শ্রফ?

ডা. রচনা শ্রফ কোলানজিওকার্সিনোমা (সাধারণত পিত্তনালী ক্যানসার নামে পরিচিত), অগ্ন্যাশয় এবং অন্যান্য হেপাটোবিলিয়ারি ক্যানসার নিয়ে গবেষণায় আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

তিনি সর্বদা এমন সব ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পক্ষে জোরালো সওয়াল করতেন, যার মাধ্যমে রোগীরা নতুন ও উদীয়মান চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোর নাগাল পেতে পারেন। পাশাপাশি তিনি তরুণ গবেষকদের মেন্টরিং বা দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে এক বক্তব্যে তিনি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোকে রোগীদের সহজে হাতের নাগালে পাওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেছিলেন, চিকিৎসকদের কাছে আসা প্রতিটি রোগীর জন্য চিকিৎসায় একটি ট্রায়ালের বিকল্প থাকা উচিত। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল রোগীদের এমন কিছু দেওয়া, যা হবে অত্যন্ত আধুনিক, যুগান্তকারী এবং উদ্ভাবনী।

রোগ নির্ণয়ের পরও ক্যানসার গবেষণাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার অদম্য প্রতিশ্রুতি অব্যাহত ছিল। পিত্তনালীর ক্যানসারে উদীয়মান গবেষকদের সহায়তা করার জন্য তিনি ‘কনকার ক্যানসার – ডা. রচনা শ্রফ, এমডি, এমএস, এফএএসসিও এনডাউড ইয়ং ইনভেস্টিগেটর অ্যাওয়ার্ড’ প্রতিষ্ঠা করেন। অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে, এই উদ্যোগটি ভবিষ্যৎ ক্যানসার গবেষণার জন্য ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারেরও বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে।

২০২৪ সালে এএসকো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. শ্রফ তার ব্যক্তিগত জীবনের সেই মূলমন্ত্রটি শেয়ার করেছিলেন, যা তাঁর পুরো কর্মজীবনকে পরিচালিত করেছিল—যদি তুমি সূর্যের আলো খুঁজে না পাও, তবে নিজেই সূর্য হয়ে ওঠো।

তার এই বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের উত্তরাধিকারের মধ্যে রয়েছে ক্যানসার গবেষণায় বহুমুখী অবদান, রোগীদের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা তরুণ বিজ্ঞানীদের প্রতি নিরলস সমর্থন।

ডা. রচনা শ্রফ রেখে গেছেন তার স্বামী ডা. পুণিত শ্রফ, তাদের দুই সন্তান সিমরান ও শচীন, বাবা দেবেন্দ্র ত্রিবেদী, মা ডা. অমিতা ত্রিবেদী এবং বোন নীমা সাহনিকে।