অনেকেরই সকালটা শুরু হয় অস্বস্তি নিয়ে। পেট পরিষ্কার না হওয়া, মলত্যাগে তীব্র কষ্ট, পেট ফাঁপা বা ভার হয়ে থাকা-এসবই কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা দৈনন্দিন জীবনকে বিষাদগ্রস্ত করে তুলতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে পারে।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পর্যাপ্ত পানি পানের পাশাপাশি আঁশযুক্ত বা ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এনডিটিভি ফুডের এক প্রতিবেদনেএমন পাঁচটি খাবারের তালিকা দেওয়া হলো যা আপনার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং মলত্যাগ সহজ করতে সহায়তা করবে।
১. কাঁচা বা পাকা পেঁপে
পেঁপে কোষ্ঠকাঠিন্যের মহৌষধ হিসেবে পরিচিত। এতে 'প্যাপেইন' নামক একটি বিশেষ এনজাইম থাকে, যা প্রোটিন হজমে দারুণ সহায়তা করে। এছাড়া পেঁপেতে থাকা প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখে, ফলে নিয়মিত পেট পরিষ্কার হয়।
২. ভেজানো কিশমিশ
শুকনো কিশমিশ রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খেলে উপকার পাওয়া যায়। কিশমিশে রয়েছে প্রচুর ফাইবার এবং 'সরবিটল' নামক প্রাকৃতিক শর্করা। সরবিটল অন্ত্রে পানি টেনে আনতে সাহায্য করে, যা মলকে নরম করে এবং নির্গমন সহজসাধ্য করে।
৩. শুকনো বরই বা প্রুন
বিশ্বজুড়েই কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে শুকনো বরই বা প্রুন খুবই জনপ্রিয়। এতে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়-উভয় প্রকারের আঁশ থাকে। অদ্রবণীয় আঁশ মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে, আর দ্রবণীয় আঁশ মলের গঠন ঠিক রাখে। কিশমিশের মতো এতেও সরবিটল রয়েছে, যা প্রাকৃতিক জোলাপ হিসেবে কাজ করে।
৪. পর্যাপ্ত পানি পান
আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার পাশাপাশি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা জরুরি। পানির অভাবে মল শক্ত হয়ে যায়, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের মূল কারণ। তাই সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করুন। তবে আপনার যদি কিডনি বা হার্টের কোনো সমস্যার কারণে পানি পানের সীমা নির্ধারণ করা থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
৫. সামগ্রিক আঁশসমৃদ্ধ খাবার
দৈনিক খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যময় শাকসবজি, তাজা ফলমূল, বিভিন্ন ধরনের ডাল এবং পূর্ণশস্যজাতীয় খাবার (যেমন লাল চাল বা আটা) রাখুন। এসব খাবারের আঁশ অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। তবে হঠাৎ করে অনেক বেশি আঁশ না খেয়ে ধীরে ধীরে এর পরিমাণ বাড়ানো উচিত।

