জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ দলটির চার নেতার রায় ঘোষণা করা হবে বৃহস্পতিবার।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এ মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা।
গত ৭ অক্টোবর চার আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এর আগে গত বছরের ২ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। তার আগে ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে এবং ৬ অক্টোবর তা আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। একই সাথে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি বলে জানালে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তাদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
পরে ২৩ অক্টোবর আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয় এবং ২৭ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করা হয়।
প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে হানিফসহ চার নেতার বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যথেষ্ট-ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সমর্থন জানান তারা।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় এক বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার সরাসরি নির্দেশ দেওয়া ও ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি জুলাই-অগাস্টে আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে।
মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর ১১ মে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে।


