...|...|...

রাজনীতি

কীভাবে কাজ করবে জামায়াতের ছায়া মন্ত্রিসভা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৭:৩৯ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:১৭
Shares
কীভাবে কাজ করবে জামায়াতের ছায়া মন্ত্রিসভা

সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, গঠনমূলক সমালোচনা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিকল্প নীতিপ্রস্তাব দেওয়া এবং মন্ত্রীদের কার্যক্রমের ভুলত্রুটি তুলে ধরতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ বা ‘শ্যাডো গভর্নমেন্ট’ গঠন করেছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের পর থেকেই ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শুরু হয়। গত মাস থেকে এটি পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিমে একজন প্রধানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক ছাত্রশিবির নেতা ও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের রাখা হয়েছে।

গত সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জানান, ছায়া মন্ত্রিসভা ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে এবং সদস্যদের প্রশিক্ষণ চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

যেভাবে গঠন করা হয়েছে

যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণা এসেছে। এ ব্যবস্থায় বিরোধী দল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে, সমালোচনা করে এবং বিকল্প নীতির প্রস্তাব দেয়। যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কাঠামো চালু রয়েছে।

জামায়াতের ক্ষেত্রে দলটির শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সাবেক আমলাদেরও এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী ধরে গঠিত এই কাঠামোয় শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে মুজিবুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ শিশির মনির।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. ইলিয়াস মোল্লা, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মাওলানা আব্দুল হালিম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সালাহউদ্দিন আইয়ুবী, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে মারদিয়া মমতাজ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে শফিকুল ইসলাম মাসুদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে রফিকুল ইসলাম খান, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সাবিকুন্নাহার মুন্নি এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন কামাল হোসেন।

সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়ক ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারের সঙ্গে ছায়ার মতো থেকে তাদের কার্যক্রমের ভালো-মন্দ পর্যবেক্ষণ করতেই এই কাঠামো গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সরকারকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতে এবং দেশ পরিচালনায় তাদের সতর্ক রাখতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সরকারের ভালো উদ্যোগ যেমন তুলে ধরা হবে, তেমনি ভুলত্রুটিও জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ছায়া মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, এটি দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। উপযুক্ত সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে। এরই মধ্যে সদস্যরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিএনপির প্রতিক্রিয়া

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের ওপর আলোচনার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জামায়াতের ছায়া মন্ত্রিসভাকে কটাক্ষ করে ‘উজিরে খামোখা’ বলে মন্তব্য করেন। তবে তিনি একইসঙ্গে বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করলে বিরোধী দলের দায়িত্ববোধ বাড়তে পারে।

অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান জামায়াতের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার মতে, গণতন্ত্রের জন্য ছায়া মন্ত্রিসভা ভালো এবং এর মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব।

তিনি বলেন, বিরোধী দল সরকারের ভুল ধরার পাশাপাশি ভালো কাজের প্রশংসা এবং কোথায় কীভাবে আরও ভালো করা যায় সেটিও তুলে ধরতে পারে।