...|...|...

সারাদেশ

কাপ্তাইয়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ

উচ্চপ্রু মারমা, রাঙ্গামাটি
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ভোর রাত ৫:০৪
Shares
কাপ্তাইয়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। কাপ্তাইয়ের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি উপজেলা থেকেও আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এতে নিয়মিত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত সাত দিনে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ২৫ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন নারী, ১০ জন পুরুষ ও দুজন শিশু। ইতোমধ্যে ২৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হননি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হয়নি। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৪৪৯ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৫ জনের ফল পজিটিভ এসেছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালে পৃথক শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবলের সংকটের পাশাপাশি কিছু স্যালাইন, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে। রোগীর চাপ আরও বাড়লে এসব সংকট চিকিৎসাসেবায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ৫০টি শয্যা রয়েছে। ডেঙ্গু রোগীর পাশাপাশি অন্যান্য রোগীর চিকিৎসাও চলমান থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, কোনো ডেঙ্গু রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুইহ্লা অং মারমা বলেন, “গত মাসের তুলনায় বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। কাপ্তাইয়ের পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়া, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি থেকেও রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। এতে হাসপাতালের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।”

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতোমধ্যে তিন মাসব্যাপী প্রচার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রতি শনিবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডেঙ্গুর হটস্পট চিহ্নিত করে সেখানে মশকনিধন ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, হটস্পটগুলোতে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হবে। স্থানীয় লোকজন যাতে নির্ধারিত জায়গায় ময়লা ফেলেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে এসব ময়লা প্রক্রিয়াজাত করার উদ্যোগও নেওয়া হবে।

চিৎমরম বাজারঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. খলিল (৩৮) বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। তিনি বলেন, আমার ডেঙ্গু পজিটিভ এসেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছি। এখানে চিকিৎসার মান ভালো। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা দিলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এর বিস্তার ঠেকাতে রোগীর বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে ধ্বংস করা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত মশকনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি।

তাদের মতে, কাপ্তাইয়ের পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়া, রাজস্থলী ও বিলাইছড়িতেও সমন্বিতভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। একই সাথে হাসপাতালের জনবল, স্যালাইন, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বাড়তি রোগীর চাপ সামলানো সহজ হবে।