কঠিন লড়াইয়ের পর তুরস্ককে ৩-১ গোলে হারিয়ে নেশনস লিগে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে ইতালি। একাধিক কঠিন মুহূর্ত পার করে দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল করে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। শেষ দিকে পিও এসপোসিতোর গোলে ম্যাচের সব অনিশ্চয়তাও কেটে যায়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বোলোগনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চেয়েছিল ইতালি। তবে তুরস্কও গোলের জন্য বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। শেষ পর্যন্ত চার ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইতালি। শীর্ষে থাকা ফ্রান্সের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট।
ম্যাচের শুরুতেই সুযোগ পেয়েছিল ইতালি। ১১তম মিনিটে জিয়ানলুকা স্কামাক্কা গোল করার সুযোগ পেলেও তার শট লক্ষ্যে থাকেনি। অন্যদিকে ইরফান কাহভেচিও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে বিপদ তৈরি করেছিলেন। তবে ইতালির গোলরক্ষক জিয়ানলুইগি দোনারুম্মার সামনে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান তিনি।
তুরস্ক এরপরও আক্রমণের চেষ্টা চালিয়ে যায়। ওজান কাবাক বক্সের বাইরে থেকে শট নিলে সেটি দোনারুম্মার হাতে প্রতিহত হয়ে কর্নারে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর সালিহ ওজকানের প্রচেষ্টাও দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইতালির অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
৩৪তম মিনিটে অবশেষে এগিয়ে যায় ইতালি। জিওভান্নি দে লরেঞ্জোর সাথে সমন্বয় করে আন্তোনিও ভারগারা বক্সে ক্রস পাঠান। বল তুরস্কের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে স্কামাক্কার সামনে চলে আসে। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে জোরালো শটে বল জালে পাঠান তিনি। বারের নিচের অংশে লেগে বল জালে জড়ায়।
গোলের পর ইতালি আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় গোলের সুযোগও তৈরি করেছিল তারা। ইসা দুম্বিয়ার প্রচেষ্টা অবশ্য তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরকান কাকির ঠেকিয়ে দেন।
৬১তম মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরায় তুরস্ক। এরেন এলমালির গায়ে লেগে বল গিয়ে পড়ে আরাল সিমসিরের কাছে। সামনে গোলরক্ষককে পেয়ে কোনো ভুল করেননি তিনি। সহজ শটে বল জালে পাঠিয়ে স্কোর ১-১ করেন সিমসির।
তবে সমতা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তুরস্ক। চার মিনিট পরই আবার এগিয়ে যায় ইতালি। ডান দিক থেকে নিকোলো বারেলার ফ্রি-কিকে বক্সে উঠে দুর্দান্ত হেড করেন রিকার্ডো কালাফিওরি। তার হেডে বল জালে জড়িয়ে যায়।
এরপর তুরস্ক সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে গেলেও দোনারুম্মার দৃঢ়তায় তা সম্ভব হয়নি। ৭৭তম মিনিটে ইউনুস আকগুনের ক্রস থেকে সালিহ ওজকানের জোরালো শটও ফিরিয়ে দেন ইতালির গোলরক্ষক।
শেষ পর্যন্ত ৮৮তম মিনিটে ম্যাচের শেষ গোলটি করে ইতালি। বক্সের ভেতর দুম্বিয়ার শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের বাধায় ফিরে আসে। বল রোমানোর কাছে গেলে তার পাস থেকে এসপোসিতো নিখুঁতভাবে শট নিয়ে জালে পাঠান। তাতেই ৩-১ গোলের জয় নিশ্চিত হয় ইতালির।
এর আগে গত মাসে বুরসায় তুরস্ককে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল ইতালি। ফ্রান্সের বিপক্ষেও ড্র করে তারা। এবার ঘরের মাঠে তুরস্ককে হারিয়ে চার ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে দ্বিতীয় অবস্থান আরও মজবুত করল ইতালি।


