...|...|...

সারাদেশ

ওসমান হাদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক: আব্দুল্লাহ আল জাবের

নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:২৬
Shares
ওসমান হাদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক: আব্দুল্লাহ আল জাবের

বক্তব্য রাখেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। ছবি: টাইমস টুডে

শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেছেন, এখনো শত শত মানুষ শহীদ ওসমান হাদির কবরের সামনে গিয়ে তার জন্য দোয়া করেন। তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক ছিলেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে নীলফামারী শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বড় বাজারে পৌঁছে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।

শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে কেন হত্যা করা হলো এমন প্রশ্ন তুলে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, গত ৫৫ বছর ধরে স্বাধীনতার কথা বলা হলেও কার্যত দিল্লির প্রেসক্রিপশনেই রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে। সেই আধিপত্য থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা থেকেই বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, এখনো শত শত মানুষ শহীদ ওসমান হাদির কবরের সামনে গিয়ে তার জন্য দোয়া করেন। তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক ছিলেন। তার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে অনেকে মনে করেছেন, কথা বলার মতো আর কেউ নেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিদের গণমাধ্যমের মাধ্যমে চরিত্রহনন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, যেখানে মানহানির মামলা হওয়ার কথা, সেখানে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দেওয়া হচ্ছে। তার অভিযোগ, বিচারব্যবস্থার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে কোনো ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না পড়লে অনেক ক্ষেত্রে বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে না।

সরকারের সমালোচনা করে ইনকিলাব মঞ্চের এ নেতা বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের কোনো ব্যবস্থাই ঠিক করতে পারেনি। দ্রব্যমূল্য নিয়ে কথা বললে কখনো যুদ্ধের প্রসঙ্গ, আবার চালের দাম নিয়ে প্রশ্ন তুললে সারের দাম সামনে আনা হচ্ছে। এভাবে জনগণকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, আমরা এখানে এসেছি আমাদের অধিকারের কথা বলতে। একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্নের বীজ বপন করতে এসেছি। শহীদ ওসমান হাদি শিখিয়ে গেছেন, আধিপত্যের সাথে আপস করে প্রধানমন্ত্রী হওয়াটা জয় নয়; বরং আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে শহীদ হওয়াটাই জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই। আমরা তো সেই শহীদ ওসমান হাদির সহযোদ্ধা, জান দেব, তবু জুলাই দেব না।

জুলাই সনদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, জুলাই সনদ কি শুধু শেখ হাসিনাকে বিদায় করে তারেক রহমানকে ক্ষমতায় আনার জন্য হয়েছিল, নাকি বাংলাদেশকে একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল? তার ভাষ্য, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রায় উপেক্ষা করা এবং শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এমন একটি বিচারব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে ন্যায়বিচার পেতে প্রধানমন্ত্রী বা রাজনৈতিক দলের আশ্বাসের ওপর নির্ভর করতে হবে না। কোনো নাগরিক অন্যায়ভাবে হয়রানি কিংবা হত্যার শিকার হলে রাষ্ট্রকেই তার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে আর ন্যায়বিচারের দাবিতে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হবে এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির রাজনীতি প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তারেক রহমানের পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কিংবা তার মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে শুধু পারিবারিক পরিচয়ের কারণে ভালোবাসে না; বরং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে তাদের অবস্থানের কারণেই ভালোবাসে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার সুযোগ পাওয়া অনেকেই আগে অনলাইনে মাঝেমধ্যে কথা বলার সুযোগও পেতেন না। তার দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই জুলাইকে অবজ্ঞা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ সরকারকে পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় এনেছে।

নাগরিক নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, যারা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, জনগণ তাদের পাশে থাকবে। অন্যদিকে, যারা জুলুম, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে মানুষের অধিকার হরণ করবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এমন বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে রিকশাচালক, ভ্যানচালক, ফল বিক্রেতা, কৃষক ও শ্রমিকেরা শুধু নাগরিক পরিচয়ের ভিত্তিতেই তাদের প্রাপ্য সুবিধা পাবেন। কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকার কারণে কেউ বিশেষ সুবিধা পাবেন, আর অন্যরা বঞ্চিত হবেন এমন বৈষম্য থাকা উচিত নয়।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। দাবিগুলো হলো শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার, গণভোটের গণরায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, পিলখানা ও শাপলা হত্যাকাণ্ডের বিচার।