ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্রবিষয়ক শাখা অ্যারোস্পেস ফোর্স নতুন একটি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র নগরী উন্মোচনের ঘোষণা দিয়েছে। একই সাথে বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রকাশ্যে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাহিনীটি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মোহেবি বলেন, ইরান দ্রুতগতিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানাগুলো ভূগর্ভে স্থানান্তর করছে। আগে ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো মূলত ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হলেও এখন মাটির গভীরে সরাসরি অস্ত্র উৎপাদনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব স্থাপনাকে ‘ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন নগরী’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
আইআরজিসির মুখপাত্রের দাবি, নিজস্ব প্রযুক্তিগত দক্ষতা, বিশাল ভূখণ্ড এবং বিকল্প উৎপাদনব্যবস্থার কারণে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেও ইরানের অস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ ধারণা করেছিল, একসময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে হামলার মধ্যেও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে ইরানের ওপর দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহেবি।
তিনি বলেন, টানা ৪৭ বছর ধরে নিষেধাজ্ঞার মুখে থেকেও বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর জোটের চাপ মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে ইরান।
তার মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশটির সামরিক ও প্রযুক্তিগত অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। এসব অর্জন যথাযথভাবে নথিবদ্ধ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।


