জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাতক্ষীরা জেলা আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনুমোদিত কমিটিকে অস্বচ্ছ, একপেশে ও পকেট কমিটি আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির একাংশের নেতাকর্মী ও ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা। একইসাথে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি পরিবর্তন না হলে গণপদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকাল ৫টায় সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট মোড়ের আল-বারাকা হোটেলে জেলা এনসিপির নেতাকর্মীদের একাংশ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। এর কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা ৬টায় একইস্থানে পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় জাতীয় ছাত্রশক্তি, সাতক্ষীরা জেলা শাখা।
জেলা এনসিপির নেতাকর্মীদের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাতক্ষীরায় দীর্ঘদিন সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলেও বিভিন্ন কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অনেক নেতাকর্মী শ্রম, সময় ও ত্যাগ দিয়ে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি অনুমোদিত জেলা কমিটিতে মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন কাজ করা অধিকাংশ নেতাকর্মীকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
তাদের দাবি, এটি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নয়; বরং ‘প্রশ্নবিদ্ধ সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার’ বিরুদ্ধে নীতিগত প্রতিবাদ। পদ-পদবি ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে নয়, ত্যাগ, যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ের ভূমিকার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত বলেও তারা উল্লেখ করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বঞ্চিত ও পদত্যাগকারী নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সাংগঠনিক সংকটের সমাধান করতে হবে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি পরিবর্তন করা না হলে গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা এনসিপির সাবেক সমন্বয়কারী মো. কামরুজ্জামান বুলু, বর্তমান সদস্যসচিব সিএম নাজমুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ আবদুল্লাহ, সদর উপজেলা কমিটির সমন্বয়কারী মাছুম আশরাফ উদ্দীন, শেখ আল ইমরান, রফিকুল ইসলাম, বার্নাবাশ ও আবদুল্লাহ আবদুল মালেকসহ অন্য নেতারা।
অন্যদিকে সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় ছাত্রশক্তি, সাতক্ষীরা জেলা শাখার পক্ষ থেকেও এনসিপির জেলা আহ্বায়ক কমিটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেওয়া হয়।
জাতীয় ছাত্রশক্তির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদিত ‘সাতক্ষীরা জেলা আহ্বায়ক কমিটি (আংশিক)’ অস্বচ্ছ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি। প্রকৃত আন্দোলনকারী ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে ‘একপেশে ও পকেট কমিটি’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংগঠনটির।
সংগঠনটির দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাথে সম্পৃক্ত মাঠপর্যায়ের ত্যাগী কর্মী ও আন্দোলনের মূল ধারার প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে কমিটি পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। একইসাথে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বর্তমান কমিটি স্থগিত করে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয়, কমিটিতে স্থান পাওয়া কয়েকজন গত ছয় মাসে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন না। সারজিস আলম ও নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর ওপর হামলার প্রতিবাদেও তারা মাঠে নামেননি বলে দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জাতীয় ছাত্রশক্তির সাতক্ষীরা জেলা শাখার নেতৃত্বে রয়েছেন আহ্বায়ক হাসিবুল হাসান রুমন, সদস্যসচিব বখতিয়ার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক মোজাহিদুল ইসলাম। সদর উপজেলা শাখায় আহ্বায়ক তাজিম হোসেন ও সদস্যসচিব পারভেজ ইমাম এবং দেবহাটা উপজেলা শাখায় সদস্যসচিব হিসেবে সাদিকুজ্জামান সাদিকের নাম সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই পক্ষের পৃথক বক্তব্যে মূলত এনসিপির সাতক্ষীরা জেলা কমিটির গঠন ও নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কিংবা সদ্য অনুমোদিত জেলা কমিটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নেতাকর্মীদের দাবি, দলীয় আদর্শ, সাংগঠনিক স্বচ্ছতা এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা না হলে সাতক্ষীরায় এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।


