...|...|...

রাজনীতি

এটা জনগণের সরকার নয়, সিন্ডিকেটের সরকার: জামায়াত নেতা মাসুদ

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৪৯
Shares
এটা জনগণের সরকার নয়, সিন্ডিকেটের সরকার: জামায়াত নেতা মাসুদ

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগ...

বর্তমান সরকারকে ‘সিন্ডিকেটের সরকার’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর সাথে বাজার সিন্ডিকেটের যোগসাজশ রয়েছে। এর প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, গ্যাসের দাম বাড়লে শুধু গ্যাসের খরচই বাড়ে না, এর প্রভাব পড়ে আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। তার অভিযোগ, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সাথে বাজার সিন্ডিকেটের যোগসাজশ থাকায় একদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়, অন্যদিকে বাজারেও পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রভাব পড়ে।

সরকারের পরিচালনাপদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের ভেতরেও এমন একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে, যার কার্যক্রম সম্পর্কে দলের অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীও অবগত নন। তার ভাষায়, এটি বিএনপি বা জনগণের সরকার নয়, বরং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত সরকার।

বাজার ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, গ্রামের যে ফসলের দাম ৫ টাকা, ঢাকায় পৌঁছানোর পর সেটির দাম হয়ে যায় ৭৫ টাকা। মাঝখানের এই বিপুল ব্যবধানের জন্য তিনি সরকারের সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত চাঁদাবাজিকে দায়ী করেন।

শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের বেতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে শিল্পমালিকদের পক্ষে শ্রমিকদের ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া সম্ভব। তার দাবি, শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজির কারণে শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, সরকারের ৩১ দফার প্রতিশ্রুতিতে দুই বছরের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর কথা উল্লেখ ছিল। অথচ এখন মাসে একাধিকবার গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শুরু থেকেই জনগণের সাথে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করছে। সরকারের কোনো জবাবদিহি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এই নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আরেকটি জুলাই ঠেকাতে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে। অথচ একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে শেখ হাসিনাও ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেননি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সতর্ক করে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে গণ-আন্দোলন ঠেকানোর চেষ্টা না করে জনগণের দাবি ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া উচিত। অন্যথায় দেশে নতুন করে গণ-আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বিরোধী দল ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে প্রাণবন্ত আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে উত্থাপিত আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় রূপ নিতে পারে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নুরুল ইসলাম বুলবুল। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এতে জামায়াতের মহিলা শাখার নেতারাও অংশ নেন।