পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নে একটি বাড়ির সামনে ১১ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণে ৪১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৯৯ টাকা ব্যয় হয়েছে। সেতুটি নির্মাণের পর প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
ধুলিয়া ইউনিয়নের মন্নান গাজী বাড়ির সামনে জামালকাঠি খালের ওপর নির্মিত হয়েছে সেতুটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি বাড়ির বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, ওই স্থানে তুলনামূলক কম ব্যয়ে আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করেও যাতায়াতের ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা আলিফ হোসেন বলেন, মন্নান গাজী বাড়িতে একজন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) থাকেন। তার তদবিরে বাড়ির সামনে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। একটি বাড়ির লোকজনের সুবিধার জন্য এত বিপুল অর্থ ব্যয় করে সেতু নির্মাণ করা ঠিক হয়নি। ওখানে কম খরচে একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করা যেত। এখানে সরকারি টাকার অপচয় করা হয়েছে।
তবে মন্নান গাজী বাড়ির বাসিন্দা আবুল গাজী বলেন, তাদের বাড়িতে সাতটি ঘরে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন মানুষ বসবাস করেন। তাদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেতু নির্মাণ হওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সেতুটির নির্মাণকাজ করেছেন ঠিকাদার মো. আমির হোসেন। প্রকল্প নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার জানার কথা না। আমি টেন্ডারে কাজ পেয়েছি এবং কাজ শেষ করেছি। এটা সংশ্লিষ্টরা ভালো বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পগুলো তার দায়িত্ব নেওয়ার আগে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ কারণে প্রকল্প নির্বাচন কীভাবে করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সেতুটি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা, প্রকল্প নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


