...|...|...

বরিশাল

একই নামে ভুল মানুষ গ্রেফতার, ২০ দিন পর কারামুক্ত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:০৬
Shares
একই নামে ভুল মানুষ গ্রেফতার, ২০ দিন পর কারামুক্ত

ভুক্তভোগী মো. জলিল হাওলাদার (৪৭)। ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অর্থ প্রতারণার মামলায় একই নাম ও বাবার নামের সাদৃশ্যের কারণে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে অন্য এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। প্রায় ২০ দিন কারাভোগের পর গত মঙ্গলবার আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছেন মো. জলিল হাওলাদার (৪৭) নামে ওই ব্যক্তি।

ঘটনাটি নিয়ে আদালতে বিষয়টি উপস্থাপনের পর ভুল ব্যক্তিকে গ্রেফতারের বিষয়টি নজরে আসে। জামিন দেওয়ার পাশাপাশি মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) পরবর্তী ধার্য তারিখে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছেন পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

জলিল হাওলাদার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার বিপিনপুর শিববাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মালেক হাওলাদার ও হালিমা খাতুনের ছেলে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৪৭ বছর। পেশায় তিনি একজন জেলে।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১৯ আগস্ট দুপুরে শিববাড়িয়া এলাকা থেকে জলিল হাওলাদারকে গ্রেফতার করে মহিপুর থানা-পুলিশ। তাকে গ্রেফতারের পর স্বজনেরা পুলিশকে জানান, জলিলের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো মামলা নেই। গ্রেফতারি পরোয়ানা ও মামলার তথ্য যাচাই করার অনুরোধও করা হয়। তবে এসব আপত্তি সত্ত্বেও তাকে আদালতে নেওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

জলিলের মেয়ে জেসমিন আক্তার বলেন, বাবাকে গ্রেফতারের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের কাছে বিষয়টি যাচাই করার অনুরোধ করেছিলেন। বাবার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই—এ কথাও পুলিশকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তার বক্তব্য আমলে না নিয়ে দ্রুত বাবাকে আদালতে পাঠানো হয়।

প্রায় ২০ দিন পর বিষয়টি আদালতে ওঠে। জলিল হাওলাদারের আইনজীবী হুমায়ুন কবীর (বাদশা) আদালতকে জানান, তার মক্কেল মামলার আসামি নন। একই এলাকায় একই নামে আরেক ব্যক্তি রয়েছেন এবং তিনিই ওই মামলার প্রকৃত আসামি।

আইনজীবী হুমায়ুন কবীর বলেন, মামলার প্রকৃত আসামি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। নাম ও বাবার নামের মিল থাকায় পুলিশ ভুল করে তার মক্কেলকে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার আদালতে বিষয়টি তুলে ধরার পর জলিল হাওলাদারকে জামিন দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেফতারের বিষয়ে মহিপুর থানার ওসিকে আগামী ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবী জানান, আদালতের জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে জলিল হাওলাদার মুক্তি পান।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামলার প্রকৃত আসামির নামও জলিল হাওলাদার। তার বাবার নাম আবদুল মালেক হাওলাদার। তিনিও শিববাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৩৫ বছর এবং মায়ের নাম মাজেদা বেগম।

প্রকৃত আসামি জলিল হাওলাদারের বাবা আবদুল মালেক হাওলাদার জানান, তার ছেলে ২০২৩ সালের দিকে সৌদি আরবে যান। এরপর থেকে আর দেশে ফেরেননি। ছেলের পরিবর্তে একই নামের অন্য একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে—এ বিষয়টি তিনি মহিপুর থানা-পুলিশের কাছ থেকেই জানতে পারেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, পটুয়াখালী সদর উপজেলার সেহাকাঠি গ্রামের রফিক মুন্সির ছেলে আলমগীর হোসেন ২০২৩ সালের ২৩ মে অর্থ প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলাটি করেন। সেখানে একমাত্র আসামি করা হয় কলাপাড়ার শিববাড়িয়া এলাকার আবদুল মালেক হাওলাদারের ছেলে জলিল হাওলাদারকে। মামলার আরজিতে তার কাছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৩ টাকা পাওনা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ওই মামলায় ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি আসামি জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে একই বছরের ৮ মে তার সম্পদ জব্দের আদেশ দেন আদালত।

মহিপুর থানার ওসি শামীম হাওলাদার বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানার কপিতে আসামির মায়ের নাম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুঠোফোন নম্বর উল্লেখ থাকলে এমন ভুল হওয়ার সুযোগ কম থাকত। তবে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর তার জামিনের জন্য আইনজীবী নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।