শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এতে বাড়ির কাজ দ্রুত শেষ করা এবং নম্বর বাড়ানোর সুবিধা মিললেও পরীক্ষার ফল ও শেখার গভীরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
‘দ্য জেনারেটিভ এআই লার্নিং পেনাল্টি: এভিডেন্স ফ্রম চাইনিজ সেকেন্ডারি এডুকেশন’ শীর্ষক জুন ২০২৬- এর এক প্রিপ্রিন্ট গবেষণায় চীনের ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর এআই ব্যবহারের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণাটি করেছেন স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিড স্ট্রমবার্গ এবং হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিক্টর লেই ও উ ইয়ানহুই।
গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৮০ শতাংশ চীনা শিক্ষার্থী দৌবাও ও ডিপসিকের মতো এআই মডেল ব্যবহার করে। ছয় মাস পর এআই ব্যবহারকারীদের বাড়ির কাজের গড় নম্বর ১৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে একটি কাজ শেষ করতে তাদের গড় সময় ৬৪ মিনিট থেকে কমে ৪৫ মিনিট হয়েছে।
তবে পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এআই ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহার না করা সহপাঠীদের তুলনায় পরীক্ষায় ২০ শতাংশ কম নম্বর পেয়েছে। অর্থাৎ বাড়ির কাজে ভালো ফল করলেও পরীক্ষায় তাদের পারফরম্যান্স দুর্বল হয়েছে।
গবেষকদের বিশ্লেষণে অবশ্য দেখা যায়, এআই ব্যবহারের ধরনই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। যারা শুধু দ্রুত উত্তর নিয়ে বাড়ির কাজ শেষ করেছে, তাদের পরীক্ষার ফল বেশি খারাপ হয়েছে। অন্যদিকে এআই ব্যবহার করেও যারা স্বাভাবিক সময় নিয়ে বিষয় বুঝতে বা কঠিন সমস্যা সমাধানে চ্যাটবটের সহায়তা নিয়েছে, তাদের ক্ষতি তুলনামূলক কম।
আরেক গবেষণায় মিডলবারি কলেজের জারা কনট্রাক্টর ও জার্মান রেয়েস বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অপরিচিত একটি বিষয় শেখান। সেখানে চ্যাটবটের সহায়তা নেওয়া শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেয়েছে।
গবেষণাগুলোর ফল এখনো সীমিত হলেও একটি বিষয় স্পষ্ট- এআই নিজে শিক্ষার জন্য বাধা নয়; বরং শিক্ষার্থীরা এটি কীভাবে ব্যবহার করছে, তার ওপর ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করছে। তাই নিজে চেষ্টা না করে এআইয়ের তৈরি উত্তর কপি করার বদলে শেখার সহায়ক হিসেবে প্রযুক্তিটি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



