...|...|...

ধর্ম

স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারে কি, যা বলছে ইসলাম

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:১৩ | আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:৩৪
Shares
স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারে কি, যা বলছে ইসলাম

সাধারণভাবে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দেওয়ার অধিকারী নন। তবে শরিয়তে স্ত্রীর জন্য বিচ্ছেদের একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে।

এর একটি হলো তালাক-এ-তাফভিজ। স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করেন, তাহলে সেই অর্পিত ক্ষমতার ভিত্তিতে স্ত্রী নিজেকে তালাক দিতে পারেন। এই ক্ষমতা বিয়ের সময় বা পরবর্তী কোনো পর্যায়ে নির্দিষ্ট শর্তে অর্পণ করা হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রচলিত কাবিননামাতেও স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট ঘর রয়েছে। তবে কাবিননামার ঘর পূরণ করা এবং এর আইনগত প্রভাবের বিষয়টি আলাদাভাবে প্রযোজ্য আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিধানের সাথে সম্পর্কিত।

খুলা কী এবং কীভাবে হয়?

স্ত্রীর জন্য বিচ্ছেদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হলো খুলা। স্ত্রী যদি মনে করেন, স্বামীর সাথে সংসার করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয় এবং এ অবস্থায় দাম্পত্য দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা কঠিন, তাহলে তিনি স্বামীর কাছে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন।

কুরআনে খুলার ভিত্তি হিসেবে সূরা আল-বাকারার ২২৯ নম্বর আয়াতের শেষাংশে এমন পরিস্থিতির কথা এসেছে, যেখানে স্বামী-স্ত্রী আল্লাহর নির্ধারিত সীমা রক্ষা করতে না পারার আশঙ্কা করেন। সেখানে স্ত্রী কোনো বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেকে মুক্ত করে নেওয়ার বিষয়ে বিধান রয়েছে।

হাদিসেও খুলার একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা পাওয়া যায়। সাবিত ইবনে কায়েস (রা.)-এর স্ত্রী রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জানান, তিনি স্বামীর চরিত্র বা দ্বীন নিয়ে অভিযোগ করছেন না, কিন্তু তার সাথে সংসার চালিয়ে যেতে পারছেন না। তখন নবীজি (সা.) মোহর হিসেবে দেওয়া বাগানটি ফেরত দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান এবং স্বামীকে তা গ্রহণ করে বিচ্ছেদ ঘটানোর নির্দেশ দেন। সহিহ বুখারিতে এ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

তবে খুলার ক্ষেত্রে ঠিক কী ফেরত দিতে হবে, কীভাবে বিচ্ছেদ কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক অধিকার কী হবে—এসব বিষয়ে মাজহাবভেদে ফিকহি পার্থক্য রয়েছে। তাই বাস্তব কোনো ঘটনায় স্থানীয় আলেম, মুফতি বা আইনজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

স্বামী রাজি না হলে কী করবেন স্ত্রী?

শুধু স্বামী খুলায় সম্মত না হওয়ায় একজন নারী সব পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়েন না। নির্দিষ্ট কারণ ও পরিস্থিতিতে ইসলামী বিচারিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদের ব্যবস্থা রয়েছে, যাকে ফাসখ বলা হয়।

স্বামীর নির্যাতন, ভরণপোষণ না দেওয়া, দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকা, দাম্পত্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা বা অন্যান্য স্বীকৃত কারণে বিচারিক বিচ্ছেদের প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে কোন কারণ ফাসখের জন্য যথেষ্ট এবং কী প্রক্রিয়ায় তা কার্যকর হবে, তা ফিকহি মত ও দেশের প্রচলিত আইনের ওপর নির্ভর করতে পারে।