ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য বিদেশি শক্তির অবৈধ প্রভাব খাটানোর তদন্তে অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেত’-এর অনুরোধে যুক্ত হয়েছে দেশটির রহস্যময় বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’।
হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলোর অনুল্লেখিত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের পেছনে কেবল কাতারই নয়; বরং আরও কয়েকটি দেশ যুক্ত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট’ এর মধ্যে তুরস্কের নামও উল্লেখ করেছে। তবে দোহা ও আঙ্কারা উভয়ই নির্বাচন প্রভাবিত করার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশটির সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছে, এই তদন্তের আওতা অত্যন্ত সীমিত প্রকৃতির। তাই গত মঙ্গলবারের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল কিংবা সংসদীয় অচলাবস্থার ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না বা এই ফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই।
অভিযোগের নেপথ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বিতর্কিত গ্রেফতার
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরব দল রা’আম-এর তিন কর্মীকে কেন্দ্রে ভোটারদের টাকা দিয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তবে দৈনিক ‘হারেৎজ’ জানিয়েছে, ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার কোনো প্রমাণ না মেলায় তাদের গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে এবং অভিযোগ ছাড়াই মামলাটি নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে। চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, পুলিশ ওই তিন কর্মীর বাড়িতে আদালতের কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেফতার অভিযান চালিয়েছিল।
হারেৎজ-এর এক সূত্র জানিয়েছে, এই পুরো মামলার সূত্রপাত মূলত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে। তার চিফ অব স্টাফ ইডো নর্ডেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতার অভিযান চালানো হয়। আই২৪ নিউজ জানায়, নর্ডেন সরাসরি ইসরায়েল পুলিশ কমিশনার ড্যানিয়েল লেভির দফতরে তার সন্দেহের কথা জানান। তবে পুলিশ প্রথমে অভিযোগের মূল সোর্স গোপন রেখেছিল, যা নির্বাচনের দিনই একটি ভিডিও বার্তায় ব্যবহার করে নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন যে—‘নির্বাচন চুরি হয়ে যাচ্ছে’।
বিরোধীদলীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর নেতানিয়াহু এই ফলাফলকে নস্যাৎ ও বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
প্রমাণ মেলেনি কোনো চক্রান্তের
পুলিশ অভিযান চালিয়ে নগদ টাকার খাম জব্দ করলেও আটক কর্মীদের সাথে কোনো বড় জালিয়াতি বা ঘুষের স্কিমের সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তদন্তের সাথে যুক্ত সূত্রের বরাতে চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ধৃতদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করেও কোনো অপরাধমূলক আলামত মেলেনি।
পুলিশ পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছে যে, এই তিনজনের গ্রেফতারির সাথে বিদেশি হস্তক্ষেপের বড় তদন্তের কোনো সম্পর্ক নেই। একইসাথে নেতানিয়াহু ও তার দল ‘লিকুদ পার্টি’র তোলা ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগও খণ্ডন করেছে পুলিশ। পুলিশের এক সূত্র জানায়, নির্বাচনের দিনটিতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা জালিয়াতির খুব কম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল এবং নির্বাচন চুরি হওয়ার দাবির সপক্ষে কোনো গোয়েন্দা বা তদন্তমূলক ভিত্তি মেলেনি।
এদিকে শিন বেতও জোর দিয়ে জানিয়েছে, এই তদন্ত অত্যন্ত নির্দিষ্ট ও সীমিত পরিসরের। যেসব সাধারণ নাগরিক গণতান্ত্রিক ও বৈধ উপায়ে ভোট দিতে এসেছিলেন, এই তদন্তের মাধ্যমে তাদের সার্বিক অবদানকে কোনোভাবেই বিতর্কিত বা কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে না।
ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন এবং বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। উভয় পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন থেকে দূরে রয়েছে। অন্যদিকে ‘রা’আম’ এবং তাদের শরিক আরব জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ যৌথভাবে ইতিহাস গড়ে সর্বমোট ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে।


