চলতি বছরের শুরু থেকে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদার বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি ‘কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন’-এর সরকারি পরিসংখ্যানের বরাতে বার্তাসংস্তা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, ২ অক্টোবর পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩০-এ পৌঁছেছে। ২০২২ সালের পর কোনো এক বছরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এটিই সর্বোচ্চ প্রাণহানির সংখ্যা। চলতি বছর এখনো শেষ না হলেও এই সংখ্যা ২০২৫ সালের মোট নিহতের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি; বৃদ্ধির হার প্রায় ১১৪ শতাংশ।
নিহতদের মধ্যে রামাল্লা ও আল-বিরেহ এলাকায় ১৫ জন এবং নাবলুসে সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই দুই এলাকাতেই মোট নিহতের প্রায় ৭৩ শতাংশ ঘটেছে। এছাড়া হেবরনে তিনজন, জেরুজালেম ও সালফিটে দুজন করে এবং কালকিলিয়ায় একজন নিহত হয়েছেন।
কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, শুধু সেপ্টেম্বরেই ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি নাগরিক, তাদের জমি ও সম্পত্তির ওপর ২ হাজার ৫১টি হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সংখ্যা ছিল ৬৪৭। ওই মাসে এসব হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন।
চলতি বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত বসতি স্থাপনকারীদের মোট ৫ হাজার ৫৬১টি হামলা নথিভুক্ত করেছে কমিশন। সেপ্টেম্বরের হামলায় ১৪ হাজার ৬০০টি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৯ হাজার ৩৩৪টি জলপাই গাছ।
একই মাসে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ২৫৪টি ফিলিস্তিনি স্থাপনা ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে ৮৯টি বসবাসযোগ্য বাড়ি। এসব ধ্বংসের ঘটনায় ৩২০ জন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন; তাদের মধ্যে ১৬৪ শিশু ও ৬৪ নারী।
এছাড়া সেপ্টেম্বরে পশ্চিম তীরে ২১টি নতুন বসতি বা আউটপোস্ট স্থাপনের চেষ্টা হয়েছে। একই সময়ে ৩ হাজার ৮২১টি বসতি ইউনিট নির্মাণের জন্য ১৬টি পরিকল্পনাও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। কমিশনের হিসাবে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে প্রায় ৬ হাজার ৬৩৫ ডুনাম বা ১ হাজার ৬৪০ একর ফিলিস্তিনি জমি দখলে নেওয়া হয়েছে।
ফিলিস্তিনি সরকারি হিসাবে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে প্রায় সাড়ে সাত লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ১৯৪টি বসতি এবং প্রায় ৪০০টি আউটপোস্টে বসবাস করছেন। গত জুনে জাতিসংঘের ১৪ জন বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার সতর্ক করে বলেছিলেন, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার তীব্র বৃদ্ধি ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।


