ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ভেতরে মতবিরোধ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার পথ খোঁজার পক্ষে মত দিচ্ছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক মাস ধরেই মতপার্থক্য চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই মতবিরোধ আরও প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। প্রশাসনের একাংশ নতুন করে সামরিক হামলার মাধ্যমে ইরানকে চাপে রেখে পরে শান্তি আলোচনায় যাওয়ার পক্ষে। অন্য অংশটি যুদ্ধের ব্যয় ও রাজনৈতিক ক্ষতির কথা বিবেচনায় নিয়ে সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের কয়েকজন উপদেষ্টা মনে করেন, ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করতে ট্রাম্পকে রাজি করানোর ক্ষেত্রে হেগসেথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের অভিযোগ, তিনি প্রেসিডেন্টকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে অভিযানটি ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার মতো স্বল্পমেয়াদি ও সহজ হবে। কিন্তু সংঘাত প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘায়িত হওয়ায় এখন প্রশাসনের ভেতরে নতুন করে কৌশল নির্ধারণের চাপ তৈরি হয়েছে।
হেগসেথের অবস্থানের বিপরীতে ভ্যান্স ও রুবিও শুরু থেকেই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার বিষয়ে তারা আগ্রহী। ভ্যান্স ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্পকে যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, ইরান যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর ভ্যান্স প্রকাশ্যেই যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, নির্বাচনে দলটির পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল ইরান যুদ্ধ। তার মতে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি থেকে প্রশাসন সরে গেছে- যা ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।
ভ্যান্সের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। পরিস্থিতি আবারও একই হলে তিনি একই সিদ্ধান্ত নিতেন বলেও জানিয়েছেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে ভ্যান্স, রুবিওসহ প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক হামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করলে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী আসনগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এ কারণে সামরিক অভিযান সম্পর্কে প্রকাশ্যে কম কথা বলার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরপর কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে সীমিত পরিসরে হামলা চালিয়েছে। তবে বড় ধরনের সংঘাত পুনরায় শুরু করার ইঙ্গিত এড়াতে এসব অভিযানের বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি তথ্য জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে পেন্টাগন। নতুন করে বড় ধরনের অভিযান শুরু হলে তা পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরি ও মেরিন সেনা ওই অঞ্চলে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা, নাকি আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটানো- এই দুই পথের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলার চাপ, অন্যদিকে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয় এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অসন্তোষ-সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে ট্রাম্পকে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে ভ্যান্স, রুবিওসহ প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক হামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করলে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী আসনগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এ কারণে সামরিক অভিযান সম্পর্কে প্রকাশ্যে কম কথা বলার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরপর কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে সীমিত পরিসরে হামলা চালিয়েছে। তবে বড় ধরনের সংঘাত পুনরায় শুরু করার ইঙ্গিত এড়াতে এসব অভিযানের বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি তথ্য জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে পেন্টাগন। নতুন করে বড় ধরনের অভিযান শুরু হলে তা পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরি ও মেরিন সেনা ওই অঞ্চলে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা, নাকি আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটানো- এই দুই পথের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলার চাপ, অন্যদিকে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয় এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অসন্তোষ- সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে ট্রাম্পকে।


